
ছবিটি আফগান এক তরুণের, সাদ্দাম হোসেনের নাতির নয়
- নিবন্ধটি এক বছর পুরনো
- প্রকাশিত 12 অক্টোবর 2022, 12:16
- 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: এএফপি বাংলাদেশ
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৫। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
এক হাতে রাইফেল এবং অপর হাতে একটি কুকুরকে ধরে রাখা এক তরুণের ছবি ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর ফেসবুকে এখানে পোস্ট করা হয়।
পোস্টটির ক্যাপশনের অংশবিশেষে লেখা রয়েছে, "ছবিতে যাকে দেখছেন—ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসাইনের নাতি মুস্তফা হুসাইন।"
"আমেরিকার সৈন্যরা যখন সাদ্দামের বাসভবনে অপারেশন চালায়, ১৪ বছরের কিশোর মুস্তফা একাই তখন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়ে যায়। অপারেশনে অংশ নেওয়া আমেরিকান সৈন্যদের ভাষ্য থেকে জানা যায়—যখন তারা সামনে অগ্রসর হতে শুরু করে, তখন মুস্তফা তাদের উপর তীব্রভাবে গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। ৪০০ আমেরিকান সৈন্যদের অগ্রসর হওয়া সে একাই রোধ করে দেয়।"

মার্কিন সামরিক অভিযানে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার পর ২০০৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ইরাকি নেতা সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তিন বছর পর ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
২০০৩ সালের জুলাই মাসে ইরাকের মসুল শহরে এক সামরিক অভিযানে তার দুই পুত্র উদয় হোসেন ও কুশয় হোসেন এবং কুশয় এর ১৪ বছর বয়সী পুত্র মোস্তফা হোসেন মারা যান।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, খুব সম্ভবত মোস্তফা সবার শেষে মারা যান এবং তার বাবা ও চাচা মারা যাওয়ার পরও এই তরুণ গুলি করতে থাকেন।
ছবিটি একইরকম দাবি সহকারে ফেসবুক এখানে ও এখানে শেয়ার করা হয়।
তবে দাবিটি অসত্য।
আফগান যোদ্ধা
রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায় ছবিটি ২০১৭ সালের ১৪ আগস্ট আমেরিকান ফটোগ্রাফার স্টিভ ম্যাককারি তার ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করেন।
পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, "আমার নতুন বই 'আফগানিস্তানে' এই ছবিটি থাকবে। আগামী সেপ্টেম্বরে বইটি প্রকাশিত হবে।"
ম্যাককারি একজন পুরস্কার বিজয়ী ফটোগ্রাফার যিনি তার 'আফগান মেয়ে' ছবিটির জন্য বিখ্যাত।
জার্মানি ভিত্তিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান তাশচেন এএফপিকে নিশ্চিত করেছে যে, এই ছবিটি ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত তাদের 'আফগানিস্তান' নামক বইয়ে আছে।
মার্কিন সামরিক আক্রমণ
যদিও মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা মনে করেন যে, তাদের সামরিক অভিযানের সময় মোস্তফা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গুলিবর্ষণ করতে থাকেন তবে তিনি ১৪ জন মার্কিন সৈন্যকে গুলি করে হত্যা করেননি।
২০০৩ সালের ২৩ জুলাই এর এক সংবাদ সম্মেলনের ভিডিওতে দেখা যায় ইরাকে মার্কিন সৈন্যদের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল রিকার্ডো সানচেজ মসুলের সেই অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, সেই অভিযানে চারজন মার্কিন সৈন্যসহ মোট ৮জন নিহত হন।
আমেরিকান সংবাদমাধ্যমে এখানে, এখানে ও এখানে তখন খবর প্রকাশিত হয় যে, মার্কিন সৈন্যদের বাইরে নিহত চারজন হলেন উদয়, কুশয়, মোস্তফা হোসেন এবং এক বডিগার্ড।
এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ