‘বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদের দৃশ্য' হিসেবে ৯ বছরের পুরনো ভিডিও প্রচার

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে কয়েক লাখ বার দেখা হয়েছে। এসব পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে, ভিডিওটিতে ২০২২ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। কিন্তু দাবিটি অসত্য। ভিডিওটি ভুল প্রেক্ষিতে ছড়ানো হয়েছে। একই ভিডিও ফুটেজ ২০১৩ সালে ব্লাসফেমি বিরোধী নতুন আইনের দাবিতে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় উগ্রপন্থী ইসলামি এক্টিভিস্টদের বিক্ষোভ সংক্রান্ত খবরের সাথে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।

ভিডিওটি ফেসবুকে এখানে গত ৮ আগস্ট পোস্ট করা হয়।

বাংলায় ক্যাপশনে লেখা হয়েছে: "লিবারেলদের ভালোবাসার বাংলাদেশ সরকার পেট্রোলের দাম ৫১% এবং ডিজেল ৪২% বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ।"

২০২২ সালের ৬ আগস্ট বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়ার পর বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল স্টেশন হাজারো মানুষ কর্তৃক অবরুদ্ধ হওয়ার প্রেক্ষিতে ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, পেট্রোলের দাম ৫১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়।

বিক্ষোভকারীরা জানান, এমন মূল্য বৃদ্ধি দেশের গরীব মানুষকে-- যারা পরিবহন এবং কৃষি জমিতে সেচ কাজে ডিজেল ব্যবহার করে থাকেন-- অচিন্তনীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য শহর যেমন চট্টগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালী, গোপালগঞ্জ, বগুড়া, পটুয়াখালী ও ভোলায় বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে আসেন।

ভাইরাল ভিডিওটি একই রকমের দাবি সহকারে টুইটারে এই পোস্টে আড়াই লাখের বেশি বার ভিউ হয়েছে। এছাড়া ফেসবুক বাংলায় এখানে এবং ইংরেজিতে এখানে শেয়ার করা হয়েছে।

যদিও ভিডিওতে সহিংস প্রতিবাদের দৃশ্যটি ২০১৩ সালে ঢাকায় ঘটা ভিন্ন ঘটনার।

ভয়াবহ প্রতিবাদ

গুগলে কীওয়ার্ড এবং রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ফুটেজটি ব্রিটিশ টেলিভিশন চ্যানেল ফোর নিউজ-এর ইউটিউব চ্যানেলে এখানে পাওয়া গেছে যা ২০১৩ সালের ৬ মে আপলোড করা হয়।

ভিডিওটির ক্যাপশন হচ্ছে: "বাংলাদেশে সংঘাত: ইসলামি উগ্রপন্থীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ"।

নিচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ভিডিও (বামে) এবং ২০১৩ সালের ইউটিউব ভিডিওর (ডানে) তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেয়া হল:

ওই সময় এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, ব্লাসফেমি বিরোধী নতুন একটি আইনের দাবিতে ঢাকায় ইসলামি উগ্রপন্থীদের একটি বিক্ষোভ সমাবেশকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার ঘটনায় অন্তত পক্ষে ৩২ জন নিহত এবং কয়েকশত আহত হয়েছেন, যা বিগত কয়েক দশকের মধ্যে দেশটির রাজপথে ঘটা ভয়াবহতম সহিংস ঘটনাগুলোর একটি।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাওয়া বিভিন্ন স্থাপনা ঢাকার গুগল স্ট্রিট ম্যাপে এখানে এখানে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নিচে ভিডিওর একটি ফ্রেইমের (বামে) সাথে গুগল স্ট্রিট ম্যাপে (ডানে) ঢাকার একটি স্থাপনার ছবির তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেয়া হল:

( Qadaruddin SHISHIR)

ভাইরাল ভিডিওটির প্রথম ২৭ সেকেন্ড আরেকটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ এর ২০১৩ সালের ৬ মে তারিখের একটি রিপোর্টে ইউটিউবে এখানে প্রকাশিত হয়েছে।