এই ভিডিওটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ‘হিন্দুত্ববাদ প্রচারের’ নয়

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

ফেসবুকে একটি ভিডিও কয়েক হাজার বার দেখা হয়েছে যেখান দাবি করা হচ্ছে, এটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট বাংলাদেশে হিন্দুত্ববাদ ছড়িয়ে দেয়ার একটি দৃশ্য। দাবিটি অসত্য; ভিডিওটি মূলত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। ভিডিওটিতে বৃহৎ কয়েকটা ধর্মের সহাবস্থানস্বরূপ ছাত্র-ছাত্রীদেরকে একটি গান গাইতে দেখা যাচ্ছে।

গত ২৭ জুলাই ফেসবুকে এখানে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়।

পোস্টটির বাংলা ক্যাপশনে লেখা রয়েছে: “ ৯০% মুসলমানের দেশে স্কুল মাদ্রাসায় হিন্দুত্ববাদী ডুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

মাদ্রাসা বলতে মূলত ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হিন্দুত্ববাদ বলতে হিন্দু ধর্মীয় চরমপন্থী আদর্শকে বোঝানো হয়।

সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যার শকতরা ৯০ ভাগেরও বেশি মুসলমান।

ভিডিওটি একইরকম ক্যাপশন সহকারে ফেসবুকে এখানেএখানে শেয়ার করা হয়েছে। 

যদিও ক্যাপশনের দাবিটি অসত্য।

ভারতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

ফেসবুকে শেয়ার করা ভিডিওটিতে “ডোবোকা লাইভ” নামের একটি লোগো দেখতে পাওয়া যায়। এর সূত্র ধরে কীওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে দেখা যায় এই নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ৪ জুন ফেসবুকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। 

ডোবোকা ভারতের আসাম প্রদেশের একটি শহর। 

পোস্টটির ক্যাপশনে অসমীয় ভাষায় লেখা রয়েছে: “ইসলামপুর ব্লক সিনিয়র মাদ্ৰাসার প্ৰাৰ্থনাসভার দৃশ্য এটি।”

নীচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ভিডিও (বামে) ও ডোবোকা লাইভের ভিডিওর (ডানে) একটি তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেওয়া হলো:

 

তাছাড়া ভিডিওটিতে দৃশ্যমান স্কুলের ঘরের সাথে গুগল ম্যাপসে পাওয়া ইছলামপুর ব্লক সিনিয়র মাদ্ৰাসার ঘরের সাদৃশ্য পাওয়া যায়।

নীচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ভিডিও (বামে) ও গুগল ম্যাপসে পাওয়া ছবির (ডানে) একটি তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেওয়া হলো: 

ভুল ব্যাখ্যা

ভিডিওটিতে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে অসমীয়া ভাষায় “তুমি করুণাময় জগতেরও প্রাণ, তুমি আল্লাহ তুমি যিশু তুমি ভগবান” বলতে শোনা যায় বলে এএফপি'র সাংবাদিক নিশ্চিত হয়েছেন। 

ভারতীয় উপমহাদেশে, বিশেষ করে হিন্দু ধর্মে স্রষ্টাকে ভগবান নামে ডাকা হয়।

ইসলামপুর ব্লক সিনিয়র মাদ্ৰাসার প্রধান আব্দুল আজিজ এ প্রসঙ্গে এএফপিকে বলেন, “এটি আমাদের মাদ্রাসায় ধারণ করা একটি ভিডিও। এতে বৃহৎ তিনটি ধর্মে স্রষ্টার নামকে নিয়ে একটি গান গাওয়া হয়। এটি হিন্দুত্ব নয়, বরং ধর্মীয় সহাবস্থানের নির্দেশক।”