পূজা উদযাপন পরিষদের সভায় হাতাহাতির দৃশ্যকে সরকারি কর্মকর্তার উপর হামলার ভিডিও বলে প্রচার

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

বাংলাদেশে রেকর্ড পরিমাণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে বাংলাদেশের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাকে পরিবহন শ্রমিকদের মারধরের ভিডিও এটি। দাবিটি অসত্য; ভিডিওটি হিন্দু ধর্মের পূজা উদযাপন পরিষদের এক সভায় হাতাহাতির খবরের সাথে পাওয়া যায়। তাছাড়া সম্প্রতি বাংলাদেশে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কোন কর্মকর্তার উপর কোন হামলার খবর এএফপি খুঁজে পায়নি। 

গত ৭ আগস্ট ফেসবুকে এখানে ভিডিওটি শেয়ার করা হয় যা ৯ হাজারের বেশি দেখা হয়েছে। 

বাংলা পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, “এবার জ্বালানি সচিবের অফিসে সচিবের পিএস জাহাঙ্গীরকে মারধর করেছে শ্রমিক নেতারা।”

"বাস ভাড়া নির্ধারণী সভায় সরকারের পক্ষে বারবার ওকালতি করতেছিলো জাহাঙ্গীর পরে পরিবহন শ্রমিক নেতারা তাকে জ্বালানি সচিবের সামনেই ধোলাই করেন!"

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বাস ভাড়াও বৃদ্ধি পেলে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। 

গত ৫ আগস্ট দেশটিতে জ্বালানি তেলের মূল্য রেকর্ড পরিমাণে ৫২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলে ফুয়েল স্টেশনগুলোতে হাজারো মানুষ জড়ো হয় এবং বিক্ষোভ করে। 

ভিডিওটি একইরকম দাবি সহকারে ফেসবুকে এখানে এখানে শেয়ার করা হয়। 

তবে দাবিটি সত্য নয়। 

গুগল কীওয়ার্ড সার্চে দেখা যায় বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায় হিন্দু ধর্মের পূজা উদযাপন কমিটির একটি সভায় দু'টি প্রতিপক্ষ গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির একটি খবরের সাথে ভিডিওটি প্রকাশিত হয়। 

বাংলাদেশি অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪ এর ফেসবুক পেজ হতে গত ৭ আগস্ট ভিডিওটি পোস্ট করা হয় যার শিরোনাম ছিল, “ফরিদপুরে পূজা উদযাপন পরিষদের সভায় মারামারি।”

বাংলাদেশি টিভি চ্যানেল ২৪ এর ইউটিউব হতেও একইদিনে ভিডিওটি পোস্ট করা হয় যার শিরোনাম ছিল, “ফরিদপুরে পূজা উদযাপন পরিষদের সভায় হট্টগোল হাতাহাতি।”

নীচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ভিডিও (বামে) ও জাগোনিউজ২৪ এর ফেসবুুকে পোস্ট করা ভিডিওর (ডানে) একটি তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেওয়া হলো:  

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার নির্বাহী প্রধান এস এম ইমাম রাজি টুলুর আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং তিনি এএফপিকে জানান যে, এই ভিডিওর সাথে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে হওয়া বিক্ষোভের কোন সম্পর্ক নেই। 

তিনি বলেন, “আমাদের উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত একটি সভার অনাকাঙ্খিত একটি ঘটনার ভিডিও এটি।”

“যেহেতু এখানে পূজা উদযাপন পরিষদের দু'টি কমিটি তাই আমরা বিভ্রান্ত হয়ে যাই অনেক সময়। এজন্য আমরা চেষ্টা করেছিলাম তাদের মধ্যে সমঝোতা করার। কিন্তু তারা আমাদের সামনেই বিরোধে লিপ্ত হয়ে যান।”

বিভ্রান্তিকর পোস্টে ছড়ানো ভিডিওটির ৩০ সেকেন্ডে রাজিকে দেখা যায় যা তিনি নিজে নিশ্চিত করেছেন। 

এছাড়াও বাংলাদেশের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সার্চ করে দেখা যায় জ্বালানি সচিব মো. মাহবুব হোসেনের ব্যক্তিগত সেক্রেটারির নাম জাহাঙ্গীর নয়, বরং কাজী শাহজাহান।

শাহজাহান এএফপিকে বলেন, “ভিডিওতে দৃশ্যমান অফিসটি আমাদের নয় এবং এ সপ্তাহে পরিবহণ শ্রমিকদের সাথে আমাদের কোন মিটিংও হয়নি।”

অদ্য ১৪ আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কোন কর্মকর্তার উপর হামলার কোন খবর এএফপি খুঁজে পায়নি।