ভারতে কৃষকদের বিক্ষোভের ভিডিওকে 'বিজেপি নেত্রীকে গণধোলাইয়ের ঘটনা' বলে প্রচার

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

ফেসবুকে একটি ভিডিও বিভিন্ন পোস্টে বহু হাজারবার শেয়ার করা হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, ভিডিওতে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেত্রী নুপুর শর্মাকে-- যিনি ২০২২ সালের জুন মাসে নবী মুহাম্মদকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে ভারত এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন-- গণধোলাইয়ের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। কিন্তু দাবিটি অসত্য। একই ভিডিও ভারতের রাজস্থান রাজ্যে কৃষকদের একটি বিক্ষোভ সমাবেশের খবরের সাথে সংবাদ প্রতিবেদন এবং সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া গেছে। ভিডিও ক্লিপে দেখা যাওয়া নারীর পরিচয় উদ্ধার করেছে এএফপি যিনি স্থানীয় একটি কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধি।

গত ১৯ জুন ২০২২ তারিখে ফেসবুকে ভিডিওটি এখানে পোস্ট করা হয়েছে এবং এরপর সেটি ৮০ হাজারের বেশিবার শেয়ার হয়েছে।

বাংলায় ক্যাপশনে লেখা হয়েছে: "নুপুর শর্মা কে গন ধৌলাই ||নবী কে কুটুক্তি  করেছিল।"

ক্লিপটিতে দেখা যাচ্ছে, হলুদ পোশাক পরিহিত একজন নারী বাঁশের একটি বেড়াকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চাচ্ছেন কিন্তু কিছু ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তাকে তাকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন।

ভারতীয় ক্ষমতাসীন দল বিজেপির একজন মুখপাত্র নুপুর শর্মা গত মে মাসে নবী মুহাম্মদকে নিয়ে বির্তকিত মন্তব্য করার পর দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠির মধ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রেক্ষিতে ভিডিও ক্লিপটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ছড়িয়েছে।

বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য এরপর নুপুর শর্মাকে তার দল বরখাস্ত করে এবং দিল্লির সর্বোচ্চ আদালত বলেন 'দেশকে অগ্নিগর্ভে পরিণত করার কারণে' তাকে ক্ষমা চাওয়া উচিত। পড়ুন এএফপির প্রতিবেদন।

ফুটেজটি ফেসবুকে একইরকম দাবি সহকারে এখানে এবং এখানেও পোস্ট করা হয়েছে।

কিন্তু দাবিটি অসত্য। ভিডিওতে দৃশ্যমান নারী নুপুর শর্মা নন।

কীওয়ার্ড এবং রিভার্স ইমেজ সার্চ করে গত ১৬ জুনের এই ফেসবুক পোস্টটি পাওয়া যায় যেখানে ওই নারীকে 'ভুমি বিরমি' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এএফপি বিরমির ফেসবুক প্রোফাইল খুঁজে বের করেছে যেখানে তিনি নিজেকে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজস্থান রাজ্যের চুরু জেলার 'ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন' এর নারী শাখার সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

১৬ জুন পুলিশের সাথে তার হাতাহাতির ভিডিওর কটি দীর্ঘতর ভার্সন নিজের প্রোফাইলে এখানে পোস্ট করেছেন।


নিচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ভিডিওর (বামে) এবং বিরমির প্রোফাইলে শেয়ার করা ভিডিওর (ডানে) তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেয়া হল:

( Qadaruddin SHISHIR)


বিরমি কৃষকদের বিক্ষোভ সমাবেশটি এবছরের ১৫ জুন নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে লাইভ সম্প্রচার করেছিলেন।

ফসলের ইন্স্যুরেন্স, ঋন মওকুফ এবং ফসলের প্রতিবেদন সহজলভ্য করার দাবিতে চুরুতে কৃষকদের অবস্থান প্রতিবাদের সাথে বিরমির সম্পৃক্ততার কথা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি লাইভের প্রতিবেদনেও পাওয়া যায়।

হিন্দি প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, "চুরু: চুরুতে কৃষকদের বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ; তিন মাস ধরে ২০ দফা দাবিতে বিক্ষোভ চলছে।"

গত ১৬ জুন স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'পত্রিকা'র প্রকাশিত একটি ভিডিওতে পুলিশের সাথে বিরমির ধ্বস্তাধস্তির অনুরূপ দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। 

হিন্দি শিরোনামটিতে লেখা রয়েছে, "চুরু কৃষক: তারানগরে কৃষক এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ।"

তারানগর রাজস্থানের চুরু জেলার একটি শহর ও পৌরসভা।

নীচে বিভ্রান্তিকর পোস্টের ভিডিও (বামে) ও পত্রিকায় প্রকাশিত ভিডিওর (ডানে) একটি তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেয়া হলো: