ভিডিওটি দক্ষিণ ভারতের একটি বাঁধের, পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা বাঁধের নয়

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা বাঁধের খুলে দেওয়া গেট দিয়ে বাংলাদেশে পানি প্রবেশ করার দৃশ্য যার ফলে বাংলাদেশে জুন মাসে ভয়াবহ বন্যা সংঘটিত হয়। দাবিটি অসত্য; ভিডিওটিতে মূলত দক্ষিণ ভারতের একটি বাঁধের গেট দিয়ে পানি উপচে পড়ার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। 

ক্লিপটি গত ১৮ জুন ফেসবুকে এখানে শেয়ার করা হয়। 

পোস্টটির বাংলা ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, “ভারতের ফারাক্কা বাধ এর 109 টি গেট দিয়ে পানি প্রবেশ করছে বাংলাদেশে। তিস্তা টিপাইমুখী সহ মোট ১১ টি পানির গেইট খুলে দিয়েছে ভারত সরকার।
ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা বেশ কয়েকটি জেলা।”

১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে একটি পানিরক্ষা বাঁধের গেট দিয়ে দ্রুত গতিতে পানি প্রবেশ করতে দেখা যায়। 

ফারাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিম সীমান্ত থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার (১১ মাইল) উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে গঙ্গা নদীতে নির্মাণ করা হয়। 

১৯৬১ সালের পশ্চিমবঙ্গের ভাগীরথি-হুগলি নদীপথে পানি সংরক্ষণের জন্য বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। 

প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের ১ তারিখ থেকে মে মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে গঙ্গার পানি ভাগাভাগির ব্যাপারে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যার মেয়াদ ছিল ৩০ বছর। 

গত জুন মাসে বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও সুনামগঞ্জে প্রবল বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সৃষ্ট বন্যায় প্রায় চার মিলিয়ন মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। এএফপির প্রতিবেদন দেখুন এখানে। 

একই ভিডিও ক্লিপ ফেসবুকে এখানেএখানে একই রকম দাবি সহকারে শেয়ার করা হয়। 

তবে দাবিটি অসত্য।

ভিডিওটিতে দৃশ্যমান মানুষদের কন্নড় ভাষায় কথা বলতে শোনা যায় যা মূলত ভারতের কর্নাটক রাজ্যর ভাষা। 

গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায় একইরকম দৃশ্যের একটি ভিডিও ২০১৯ সালের ১১ আগস্ট ইউটিউবে পোস্ট করা হয়। ইউটিউব চ্যানেলটির নাম “কর্নাটক ট্রাভেল ডায়েরিজ।”

ভিডিওর শিরোনামে লেখা রয়েছে, “হেমাবতি বাঁধ, গরুড়।”

ভারতের দক্ষিণের রাজ্য কর্নাটকের হাসান জেলায় হেমাবতী নদীর উপর গরুড় বাঁধটি অবস্থিত। এটি ফারাক্কা বাঁধ থেকে প্রায় ২৩০০ কিলোমিটার (১৪০০ মাইল) দূরে অবস্থিত।

ভারতের সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ফারাক্কা বাঁধ প্রায় ২২৪৫ মিটার (দুই কিলোমিটারের বেশি) লম্বা অথচ ফেসবুকের ভিডিওটিতে যে বাঁধটি দেখা যায় তা দৈর্ঘ্যে অনেক ছোট। 

নীচে  বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ভিডিও (বামে) ও ইউটিউবে পোস্ট করা ভিডিওর (ডানে) মধ্যে একটি তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেখানো হলো:

গুগল ম্যাপসে প্রাপ্ত গরুড় বাঁধের ছবির সাথেও বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ভিডিওর দৃশ্যের মিল রয়েছে।

নীচে  বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ভিডিও (বামে) ও গুগল ম্যাপসে প্রাপ্ত ছবির (ডানে) মধ্যে একটি তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেখানো হলো: