
ফ্যাক্টরিতে আগুনের এই ভিডিও ২০২২ সালের এপ্রিল মাসের, সীতাকুণ্ডে কন্টেইনার ডিপো দুর্ঘটনার নয়
- নিবন্ধটি এক বছর পুরনো
- প্রকাশিত 16 জুন 2022, 14:30
- 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: এএফপি বাংলাদেশ
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৫। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
গত ৬ জুন ভিডিওটি ফেসবুকে এখানে শেয়ার করা হয়েছে এবং ১২ হাজারবারের বেশি ভিউ হয়েছে।
ক্যাপশনে লেখা হয়েছে: "ইন্নালিল্লাহ, এই মুহুর্তে পুরান ঢাকার শহীদ নগর ৪নাম্বার গলিতে আগুন ৷ আর সহ্য হচ্ছে না রে আল্লাহ। আগুনের সংবাদ পড়তে পড়তে ক্লান্ত ৷ আল্লাহ রহম কর।"

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গত ৫ জুন একটি কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ৪০ জনের বেশি নিহত এবং কয়েকশ মানুষ আহত হন। এই ঘটনার পরপরই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতে শুরু করে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হলেও দেশটির শিল্পকারখানার অবকাঠামো এখন আধুনিকায়ন হয়নি। ফলে সেখানে প্রায়ই কারখানা এবং বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ভিডিওটি ফেসবুকে আরও বিভিন্ন পোস্টে এখানে ও এখানে একই দাবি সহকারে শেয়ার করা হয়েছে।
ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অনেকে ভিডিওটিকে ৬ জুনের ঘটনা হিসেবে মনে করে বিভ্রান্ত হয়েছেন। একজন মন্তব্য করেছেন: "আল্লাহ আমাদের রক্ষা করো"। আরেকজনের মন্তব্য: "খুবই দু:খজনক"।
কিন্তু ভিডিওটির সাথে থাকা ক্যাপশনটি বিভ্রান্তিকর। কারণ এটি ৫ জুনের অন্তত দেড় মাস আগের একটি অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও।
কীওয়ার্ড এবং রিভার্স ইমেজ সার্চ করে একই ভিডিও টিকটকে এমডি হাফিজ খান নামে একটি আইডিতে এখানে পাওয়া গেছে, যা ২০২২ সালের ১৫ এপ্রিল আপলোড করা হয়।
টিকটক ভিডিওটিতে একজনের কণ্ঠ শোনা যায় যিনি বলছেন: "শহীদ নগর ৪ নং গলিতে আগুন লাগছে"।
শহীদ নগর ঢাকার একটি এলাকা।
নিচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ভিডিও (বামে) এবং টিকটকে পোস্ট করা ভিডিওর (ডানে) তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেয়া হল:

এমডি হাফিজ খানের আইডি থেকে একই অগ্নিকাণ্ডের আরও বেশ কয়েকটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে ওই দিন।
একটি ভিডিওতে দেখা যায় আইডিটির প্রোফাইলে যার ছবি রয়েছে সেই ব্যক্তিটি ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ভিডিও করছেন।
একইরকম ভিডিও এবং ছবি ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এখানে, এখানে ও এখানে প্রকাশিত হয়েছে। এসব রিপোর্টে বলা হয়েছে ঢাকার শহীদ নগর এলাকায় একটি প্লাস্টিক ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
নিচে বিভ্রান্তিকর ভিডিও (বামে) এবং একটি সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিওর (ডানে) তুলনামুলক স্ক্রিনশট দেয়া হল:

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ