
নুপুর শর্মার এই ছবিগুলো ২০০৮ সালে তোলা, 'তাকে দিল্লিতে মারধর' করা হয়নি
- নিবন্ধটি এক বছর পুরনো
- প্রকাশিত 15 জুন 2022, 15:26
- 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: এএফপি বাংলাদেশ
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৫। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
ছবিগুলো ফেসবুকে গত ১৩ জুন এখানে পোস্ট করা হয়েছে।
বাংলা ভাষায় ক্যাপশনে লেখা হয়েছে: "আলহামদুলিল্লাহ্। মহানবী(সা.)কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা সেই নারী নুপুর শর্মাকে দিল্লিতে মার্কেটে শপিং করার সময় গণধোলাই দিয়েছে জনতা।"

চলতি জুন মাসের শুরুর দিকে একটি ভারতীয় টিভি চ্যানেলের টকশোতে নবী মুহাম্মদ ও তার সবচেয়ে ছোট স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর প্রতিবাদের মুখে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মুখপাত্রের পদ থেকে বরখাস্ত হন নুপুর শর্মা।
ভারতের হিন্দু-জাতীয়তাবাদী সরকারের কট্টরপন্থী মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্বপালন করা নুপুর শর্মার মন্তব্যের পর ভারতে এবং প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোতে প্রতিবাদ শুরু হয়। এএফপির প্রতিবেদন মতে, পূর্ব-ভারতে বিক্ষোভের সময় পুলিশ গুলি করে দুইজনকে হত্যা করে এবং আরও ১৩০ জনকে গ্রেফতার করে।
২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার এবং বিজেপির বিরুদ্ধে মুসলমানদের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি প্রণয়ন ও সমর্থনের অভিযোগ রয়েছে।
ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবিগুলো একইদাবি সরকারে এখানে এবং এখানেও পোস্ট করা হয়েছে।
কিন্তু দাবিটি অসত্য; ছবিগুলো ২০০৮ সালে তোলা।
কীওয়ার্ড ও রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ছবি দুটি ফটো এজেন্সি গেটি ইমেজ এর ওয়েবসাইটে এখানে ও এখানে পাওয়া গেছে।
গেটি ইমেজ উভয় ছবিতে ক্যাপশন দিয়েছে: "২০০৮ সালের ৬ নভেম্বর ভারতের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর ক্যাম্পাসে আয়োজিত একটি সভায় অধ্যাপক এসএআর গিলানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে জোরপূর্বক দরজা দিয়ে প্রবেশ করছেন (বিজেপির ছাত্র সংস্থা) এবিভিপি কর্মী এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সভাপতি নুপুর শর্মা।"
ওই সময় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল রহমান গিলানি নামে এক শিক্ষাবিদ কর্তৃক একটি সেমিনার পরিচালনার ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে সেমিনার কক্ষে জোরপূর্বক কয়েকজন শিক্ষার্থীর প্রবেশ এবং গিলানিকে হেনস্থা করতে নেতৃত্ব দিয়ে কুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন নুপুর।
২০০১ সালে ভারতের সংসদ ভবনে হামলার ঘটনায় গিলানিকে প্রথমে ভারতের একটি আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলেও পরে উচ্চ আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয়নি বলে বেকসুর খালাস করে দেয়।
গিলানিকে 'সন্ত্রাসী' আখ্যা দিয়ে তাকে হেনস্থার ঘটনায় শর্মা নিজের এবং তার সহযোগীদের ভূমিকার পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন বলে তখন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছিল।
নিচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ছবি (বামে) ও গেটি ইমেজের ছবির (ডানে) তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেয়া হল:

জুনের ১৫ তারিখ এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সম্প্রতি দিল্লিতে জনতার হাতে নুপুর শর্মার মারধরের শিকার হওয়ার কোন ঘটনার খবর বিশ্বাসযোগ্য কোন সংবাদমাধ্যমে খুঁজে পায়নি এএফপি।
এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ