নাসা‘র মঙ্গলযান ‘পারসিভারেন্স‘। ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে তোলা ছবি। ( NASA / Handout)

মঙ্গল অভিযানের জন্য মার্কিন তরুণীকে নাসা কর্তৃক মনোনীত করার খবরটি সত্য নয়

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে একটি দাবি করা হচ্ছে যে, ২১ বছর বয়সী মার্কিন তরুণী এলিসা কার্সন প্রথম মানুষ এবং মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা'র কনিষ্ঠতম সদস্য হিসেবে মঙ্গল গ্রহে অভিযানে যাওয়ার জন্য মনোনীত হয়েছেন যেখান থেকে তিনি ফিরে নাও আসতে পারেন। দাবিটি অসত্য; অদ্য ১০ জুন, ২০২২ পর্যন্ত এলিসা এখনো স্বীকৃত নভোচারী হয়ে উঠতে পারেন নি এবং এই সময় পর্যন্ত মঙ্গলে মানুষ যাওয়ার প্রযুক্তিও এখনো প্রক্রিয়াধীন। নাসা-ও এলিসাকে মঙ্গল অভিযানে প্রেরণের সিদ্ধান্তের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

গত ১৪ মে বাংলাদেশি টেলিভিশন চ্যানেল মোহনা টিভির ফেসবুক পেজ থেকে এরকম দাবিসহ একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়।

পোস্টটির ক্যাপশন ছিল, “মঙ্গলের বুকে প্রথম মানুষ হিসেবে পা রাখা এলিসা, পৃথিবীতে নাও ফিরতে পারে।”

( Qadaruddin SHISHIR)

ভিডিও ক্লিপটির ধারাবিবরণীতে বলা হয়, “২১ বছর বয়সী এই মেয়েটি নাসার কনিষ্ঠতম সদস্য। সবকিছু অনুকূলে থাকলে এলিসা হবে ২০৩৩ সালে মঙ্গলে যাওয়া প্রথম মানুষ। মঙ্গল গ্রহ থেকে ফিরে আসবে না জেনেও এলিসা নিজেকে তৈরি করছেন মঙ্গলে যাওয়ার জন্য। সবকিছু ঠিকঠাক চললে তিনিই হবেন প্রথম মঙ্গল গ্রহে পাড়ি দেওয়া মানুষ। যেহেতু মঙ্গল গ্রহে একবার গেলে তিনি আর ফিরে নাও আসতে পারেন তাই নাসার তরফ থেকে একটি চুক্তিপত্রেও তিনি স্বাক্ষর করেছেন যেখানে বলা হয়েছে বিয়ে বা সন্তান ধরণের মতো বিষয় থেকে তাকে বিরত থাকতে হবে।”

মঙ্গলে যাওয়া প্রথম মানুষের একজন হওয়ার আকাঙ্খা ব্যক্ত করে এলিসা খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন। তার ওয়েবসাইট ও লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এই তরুণী বিভিন্ন স্পেস ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করেছেন এবং মাত্র ১৮ বছর বয়সে পাইলট লাইসেন্স লাভ করেন। 

এলিসার মঙ্গল অভিযানে অংশ নেয়া সংক্রান্ত দাবিটি ফেসবুকে এখানে এবং এখানেও শেয়ার করা হয়েছে।

তবে দাবিটি অসত্য। 

অদ্য ১০ জুন, ২০২২ পর্যন্ত এলিসা এখনো স্বীকৃত নভোচারী হয়ে উঠতে পারেন নি। 

২০২১ সালের ১ এপ্রিল প্রকাশিত এবিসি অস্ট্রেলিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন, “নভোচারী হতে আবেদন করার জন্য আমার প্রথমে মাস্টার্স ডিগ্রি ও কিছু কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এটি খুবই কঠিন একটি প্রতিযোগিতা।”

এ ব্যাপারে এএফপি পক্ষ থেকে এলিসা ও তার টিমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায়নি। তবে ১০ জুন, ২০২২ পর্যন্ত এলিসা কার্সনের মঙ্গল অভিযানের জন্য মনোনীত হওয়ার কোন খবর তার ওয়েবসাইট, সামাজিক মাধ্যম প্রোফাইল অথবা কোন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমেও পাওয়া যায়নি।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা মঙ্গল অভিযানের জন্য সংস্থাটির কোন সদস্যকে মনোনীত করার খবর প্রত্যাখ্যান করেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা মঙ্গল অভিযানের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষা করার জন্য চাঁদে নভোচারী প্রেরণের জন্য নির্ধারিত আর্টেমিস প্রোগ্রামের জন্যই এখনো সদস্য নির্দিষ্ট করেনি।

নাসার জনসংযোগ কর্মকর্তা ক্যাথরিন হাম্বেলটন ২০২১ সালে এএফপিকে বলেছিলেন, “এখন পর্যন্ত আমরা আর্টেমিস কিংবা মঙ্গল অভিযান কোনটার জন্যই সদস্য মনোনীত করিনি।”

চলতি ২০২২ সালের ৯ জুন আবারও ক্যাথরিন হাম্বলটনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘এ বিষয়ে আমাদের আগের বক্তব্যই বহাল রয়েছে। নতুন করে দেয়ার মতো কোনো তথ্য নেই।”

সংস্থাটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, তারা ২০৩০ এর দিকে মঙ্গলে মানুষ প্রেরণের ব্যাপারে আশাবাদী।

হাম্বলটন জানান, এলিসার সাথে নাসা'র কোন আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। 

তিনি বলেন, “নাসার মূল মিশন এবং মহাকাশ গবেষণাকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য আমরা বিভিন্নভাবে ছাত্রদের সাথে কাজ করি এবং আমরা তাদেরকে উৎসাহিত করতে চাই। তবে এলিসার সাথে আমাদের কোন আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই।”

তাছাড়া মঙ্গল অভিযান থেকে মানুষ ফিরে না আসার ব্যাপারে হাম্বলটন বলেন, “আমরা সবসময় যেকোন মূল্যে আমাদের নভোচারীদের ফিরিয়ে আনবো।”

এ বিষয়ক এএফপির পূর্বের প্রতিবেদনটি পড়ুন এখানে