অগ্নি দুর্ঘটনার ফুটেজকে বাংলাদেশে 'হিন্দুদের ওপর হামলা'র দৃশ্য বলে ভুলভাবে প্রচার

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

ফেসবুকে একটি ভিডিও বেশ কিছু পেইজ ও আইডি থেকে পোস্ট করা হয়েছে। কয়েক হাজারবার ভিউ হওয়া ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে যে,এটিতে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বাগেরহাট জেলায় হিন্দুদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। কিন্তু দাবিটি সত্য নয়। সামাজিক মাধ্যমে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক ব্যক্তির বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় তার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে ঠিকই; কিন্তু আলোচ্য ভিডিওটি চট্টগ্রামে কয়েক সপ্তাহ আগে একটি অগ্নি দুর্ঘটনার সময় রেকর্ড করা।

গত ১১ এপ্রিল ভিডিওটি ফেসবুকে এখানে পোস্ট করা হয়েছে যার ক্যাপশন ছিল: "ব্রেকিং নিউজ: বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার আমড়বুনিয়া গ্রামে বহু হিন্দু বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলে রওনা দিয়েছেন পুলিশ সুপার।"

( Qadaruddin SHISHIR)

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ১০ শতাংশের কাছাকাছি হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের বসবাস, যাদের অনেকে প্রায়ই সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হয়ে থাকেন।

ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন মতে, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে এক হিন্দু ব্যক্তি ইসলাম ধর্মের অবমাননা করে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন এমন অভিযোগে স্থানীয়রা ওই ব্যক্তির বাড়িতে ভাঙচুর করেন এবং সেখানে একটি খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

হামলার পর পুলিশ আন্তধর্মীয় উত্তেজনা বৃদ্ধির অভিযোগে ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে যাদের মধ্যে ভাঙচুর হওয়ার বাড়ির ওই হিন্দু ব্যক্তিও রয়েছেন।

ভিডিওটি ফেসবুকে এখানে, এখানে এখানে পোস্ট করা হয়েছে এবং ৩০ হাজারের বেশিবার ভিউ হয়েছে।

কিন্তু পোস্টগুলোর সাথে থাকা দাবিটি বিভ্রান্তিকর।

কীওয়ার্ড ও রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ২ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের ফুটেজটি গত ১৮ মার্চ ফেসবুকে এখানে লাইভ সম্প্রচার করা হয়েছে বলে পাওয়া যায়।

লাইভ ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল: "সমিতির হাটে পশ্চিম পাশে কবিরাজবাড়ি প্রকাশ হিন্দু বাড়িতে আগুন"।

সমিতিরহাট হচ্ছে বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের জেলা চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার একটি ইউনিয়ন।

নীচে বিভ্রান্তিকর পোস্টের ভিডিও (বামে) এবং ১৮ মার্চ ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচারিত ভিডিওর তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেয়া হল:

ভিডিওটির ১৮ সেকেন্ড থেকে এক কণ্ঠ শোনা যায় যিনি বারবার বলছিলেন: "সম্মানিত এলাকাবাসী, আসসালামু আলাইকুম। সমিতিরহাটের পশ্চিম পাশে কবিরাজবাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগ। আপনারা যে যেখান থেকে পারুন তাড়াতাড়ি আসুন।"

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মতে, বিদ্যুতের পিলার থেকে তার ছিঁটকে পড়ে ১৮ মার্চ সমিতিরহাটে এক অগ্নিকাণ্ড ঘটে যেখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ১৪টি পরিবারের ঘর পুড়ে যায়।

১৮ মার্চ ফেসবুকে মুহাম্মদ. নাঈম ভুঁইয়া নামের যে আইডি থেকে অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য লাইভ সম্প্রচার করা হয়েছিল তার সাথে যোগাযোগ করে এএফপি।

মুহাম্মদ. নাঈম ভুঁইয়া বলেন, তিনি নিজে ভিডিওটি সম্প্রচার করেছিলেন এবং যে কণ্ঠ শোনা যায় সেটি তার। তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তার গ্রামে ঘটেছিল।

এএফপি কর্তৃক ভাইরাল ভিডিওটি তার দৃষ্টিগোচর করা পর মুহাম্মদ. নাঈম ভুঁইয়া নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করে জানান তার করা ভিডিওটি বর্তমানে অসত্য দাবি সহকারে ছড়ানো হচ্ছে।

ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্রের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা এএফপিকে জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি গত ১৮ মার্চ ২০২২ তারিখে সমিতিরহাটে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার।