ভিডিওটি শ্রীলংকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের, ভারতের হিজাব বিতর্কের নয়

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে ভারতের কর্ণাটকে হিজাবের উপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে মুসলমান নারীদের উপর হামলার দৃশ্য এটি। দাবিটি বিভ্রান্তিকর; ভিডিওটি মূলত ২০১৯ সালে শ্রীলংকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাগিংয়ের অনুষ্ঠানের দৃশ্য। 

ভিডিও ক্লিপটি গত ১০ ফেব্রুয়ারি এখানে শেয়ার করা হয়।

( Mohammad MAZED)

ক্লিপটিতে কয়েকজন পুরুষকে বালতিতে করে মুসলমান কিছু নারীর উপর পানি নিক্ষেপ করতে দেখা যাচ্ছে।

পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, “ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কর্ণাটকে গত কয়েকদিন যাবত সেখানের কলেজ গুলোতে উগ্র বিজিপির সমর্থক এবং গেইটে অবস্থান করা ছাত্র সংস্থার উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীরা হিজাব পরিধান করা মেয়েদেরকে উত্যক্ত করছে।”

ভিডিওটি একই দাবি সহকারে ফেসবুকে এখানেএখানে শেয়ার করা হয়। 

হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধ হওয়ার প্রেক্ষিতে চলমান প্রতিবাদ এবং ধর্মীয় উত্তেজনার মধ্যে ভিডিওটি অনলাইনে ছড়ায়।  

তবে দাবিটি অসত্য।

কয়েকজন নারীর উপর বালতিতে করে পানি নিক্ষেপের দৃশ্যটি শ্রীলংকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের। 

‘লংকা সান নিউজ’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে একই ভিডিও ক্লিপ ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শেয়ার করা হয় এবং পোস্টটির বর্ণনামতে এতে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের ভানথারুমুলাইয়ে ইস্টার্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন বরণের সময় র্যাগিংয়ের দৃশ্য।

ভিডিওটির সাথে সংযুক্ত তামিল ভাষার ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, “প্লিজ দেখুন এবং শেয়ার করুন। শ্রীলংকান ইস্টার্ন।”

বিদেশে অবস্থানরত শ্রীলংকান তামিলদের পরিচালিত সংবাদমাধ্যম পুথিথু’র ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির একটি প্রতিবেদনে ভিডিওটি প্রকাশিত হয়।

তামিল ভাষার শিরোনামে লেখা রয়েছে, “ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উপর হামলার নিন্দা।”

পুথিথু’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, “কয়েকজন ছাত্র কর্তৃক বেশকিছু ছাত্রীকে ধাওয়া করা ও তাদের উপর পানি নিক্ষেপের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। যারা ভিডিওটি নিয়ে লিখেছেন তাদের ভাষ্য অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়টির সিনিয়র ছাত্ররা নবাগত ছাত্রীদের সাথে এমন আচরণ করে।”  

“পুথিথু ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছে যে, ঘটনাটি তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেছে।”

এএফপি পৃথকভাবে ভিডিওটির স্থান বিশ্লেষণ করে এবং ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবির সাথে তুলনা করে দেখেছে।

শ্রীলংকার ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলের একটি ভিডিও ক্লিপের ৩৯ সেকেন্ডে দু'পাশে গাছসহ একটি রাস্তা দেখা যায়। 

দৃশ্যটিতে মুসলিম পোশাক পরা কিছু ছাত্রীকেও সেখান দিয়ে হেটে যেতে দেখা যায়। রাস্তা ও দু'পাশের গাছের দৃশ্য বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ভিডিওর সাথে মিলে যায়। 

নীচে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ভিডিও (বামে) ও বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ভিডিওর (ডানে) একটি তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেওয়া হলো:

দৃশ্যগুলোর সাথে অনলাইন ম্যাপ ‘ম্যাপিল্যারি’তে ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছবিরও মিল পাওয়া যায়।

ফুটেজটি ২০১৯ সালের আগস্টেও ভিন্ন একটি অসত্য দাবিসহকারে অনলাইনে ছড়ায় এবং এএফপি তা নিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন করে।