ডেভিড এটেনবরোকে উদ্ধৃত করে ইসরায়েল সম্পর্কে ভিত্তিহীন বক্তব্য প্রচার

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

ফেসবুকে বেশকিছু পোস্টে বৃটিশ প্রকৃতিবাদী ও বিবিসির সাবেক সিনিয়র ম্যানেজার ডেভিড এটেনবরোকে উদ্ধৃত করে একটি বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে তিনি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষিতে ইসরায়েলের সমালোচনা করে দেশটিকে কুমিরের চেয়েও খারাপ বলেছেন। দাবিটি অসত্য; বিবিসি জানিয়েছে এটেনবরো এরকম কোন বক্তব্য প্রদান করেন নি। এরূপ বক্তব্যের কোন নির্ভরযোগ্য খবরও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ইরানি একটি সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন থেকে এই বক্তব্যটি ছড়িয়েছে বলে পাওয়া যায়।

গত ৪ জুন ফেসবুকে এখানে পোস্টটি করা হয়। 

একটি ফেসবুক পোস্টে লেখা হয়: ''ইসরাইল হলো হিংস্র কুমিরের থেকে খারাপ-
ব্রিটেন কিংবদন্তী ডেভিড অ্যাটেনবরোর''। পোস্টটির সাথে অ্যাটেনবরোর একটি ছবিও সংযুক্ত আছে। 

স্ক্রিনশটটি ২০২১ সালের ৫ জুন তারিখে একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নেয়া

ফেসবুকে এখানে, এখানে এখানে একইরকম পোস্ট করা হয়।

দাবিটি অসত্য।

ইসরায়েলকে নিয়ে অ্যাটেনবরো এরকম বক্তব্য দিয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রের কোন প্রতিবেদন এএফপি খুজে পায়নি।

অ্যাটেনবরোকে নিয়ে ছড়ানো ফেসবুক পোস্টের সম্পর্কে বিবিসির একজন মুখপাত্র জানান যে, এই বক্তব্যটি ভুলভাবে অ্যাটেনবরোর নামে উদ্ধৃত করা হচ্ছে।

এএফপিকে এই মুখপাত্র বলেন, ''বক্তব্যটি স্যার ডেভিডের নয়। এবং এটি তার সাথে উদ্ধৃত করা উচিত নয়।''

মার্কিন ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থা স্নোপস এর প্রতিবেদন অনুযায়ী এই বক্তব্যটি ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির ২০১৪ সালের একটি প্রতিবেদন থেকে নেওয়া। 

প্রেস টিভির প্রতিবেদনটির মন্তব্য বিভাগে ডেভিড অ্যাটেনবরো নামে একজ্ন পাঠক ইসরায়েলকে নিয়ে এরূপ একটি মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনটি পরবর্তীতে মুছে ফেলা হলেও আর্কাইভ ভার্সন দেখা যাবে এখানে

এরপর থেকেই মূলত বৃটিশ এই প্রকৃতিবাদীর নামে অসত্যভাবে বক্তব্যটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ানো হয়।

অ্যাটেনবরোকে নিয়ে ছড়ানো এই বক্তব্যটি ২০১৪ সালে সৌদি আরব ভিত্তিক আরব নিউজ এবং বাংলাদেশের ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ডেইলী স্টারেও প্রকাশিত হয়।

ডেইলী স্টারের প্রতিবেদনে অ্যাটেনবরো এই মন্তব্য ২০১৪ সালের ২১ জুলাই করেন বলে উল্লেখ করা হয়, যে তারিখে প্রেস টিভিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

ডেভিড অ্যাটেনবরোকে উদ্ধৃত করে এর আগেও এরকম অসত্য বক্তব্য ছড়ানো হয়েছিল। এএফপির করা এরকম একটি ইংরেজি ফ্যাক্ট চেক দেখুন এখানে