ভুয়া খবরটি ফেসবুকে ছড়িয়েছে। (ছবি তুলেছেন অলিভিয়ে ডুলিরি) (AFP / Olivier Douliery)

বিভ্রান্তিকর অনলাইন পোস্টে সিলিকোন নির্মিত শিল্পকর্মকে 'মানুষের মতো বিরল প্রাণী' বলে প্রচার

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

আরমাডিলোর মতো দেখতে মানুষের বৈশিষ্ট্যসদৃশ শিল্পকর্মের কিছু ছবিকে ভারতে পাওয়া বাস্তব প্রাণীর ছবি বলে বিভিন্ন অনলাইন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে। দাবিটি অসত্য; এই ছবিগুলো বাস্তব কোন প্রাণীর নয়, বরং এগুলো একজন ইতালিয়ান শিল্পী কর্তৃক সিলিকোনে নির্মিত শিল্পকর্ম। 

বাংলায় ফেসবুক পোস্টটিতে লেখা হয়েছে: ''দেখা মিলল মানুষের মতো এক বিরল প্রাণীর!'' দেখুন এখানে

পোস্টটিতে বলা হয়েছে: '' যার মুখটা মানুষের মতো, গায়ে আরমাডিলোর মতো বর্ম, আঙুলগুলো ব্যাঙের মতো। .......ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে ওই প্রাণীটিকে দেখা গেছে।''

২০২১ সালের ২৩ জুন নেয়া বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টটির একটি স্ক্রিনশট

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী: ''আরমাডিলো হলো এক ধরণের প্রাণী যার পিঠ, মাথা, পা এবং লেজে অস্থিময় আবরণ রয়েছে।''

অযোধ্যা পাহাড় হলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুরুলিয়া জেলার একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল।

একই দাবিসহকারে ছবিগুলো ফেসবুকে এখানে, এখানে এখানে শেয়ার করা হয়।

বাংলাদেশি কিছু অনলাইন পোর্টালেও বিভ্রান্তিকর এই খবরটি এখানে, এখানেএখানে পোস্ট করা হয়।

কিন্তু দাবিটি অসত্য।

রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায় যে ইতালিয়ান ভাস্কর লাইরা মাগানুকোর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর ছবিগুলো আপলোড করা হয়।

পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে: ''সিলিকোন নির্মিত হাইব্রিড আর্মাডিলো।''

নীচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্ট (বামে) ও মাগানুকোর আপলোড করা (ডানে) ছবিগুলোর তুলনামূলক একটি স্ক্রীনশট দেওয়া হলো:

অধিকতর সার্চে দেখা যায় যে আমেরিকান ই-কমার্স ওয়েবসাইট etsy.com-এ মাগানুকো এর আগে একইরকম পণ্য বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দেন। 

পণ্যটির বর্ণনায় লেখা আছে: ''এটি নিজ হাতে অ্যাসিটিক সিলিকোন মিশ্রণ দিয়ে তৈরী। আমি নিজে এই পদ্ধতি বের করেছি। পণ্যটি অনন্য এবং পুনরায় তৈরী যোগ্য নয়। উতসাহী এবং সংগ্রাহকদের জন্য উপযুক্ত। শিল্পপণ্যটিকে বাস্তবিক রূপ দেয়ার জন্য এতে উপাদানগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।''

গুগলে বিভিন্ন কীওয়ার্ড সার্চে পশ্চিমবঙ্গে মানুষের মতো দেখতে এরকম কোন প্রাণীর সন্ধান পাওয়ার কোন নির্ভরযোগ্য খবর পাওয়া যায়নি।

পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক আনন্দবাজারে বিভ্রান্তিকর এই দাবিটি খণ্ডন করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। দেখুন এখানে