পশ্চিমবঙ্গে একটি মন্দির নদীতে ধসে যাওয়ার ভিডিও এটি

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

ফেসবুকে একটি ভিডিও কয়েক হাজার বার দেখা হয়েছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে ভিডিওটি ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় রাম মন্দির পানিতে মিশে যাওয়ার দৃশ্যের। দাবিটি অসত্য; ভিডিওটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নদী ভাঙ্গনে একটি মন্দির বিলীন হয়ে যাওয়ার খবরের সাথে প্রকাশিত হয়েছে। 

গত ২ নভেম্বর ফেসবুকে এখানে শেয়ার করা ভিডিওটি ৩৭ হাজারের বেশি দেখা হয়েছে। 

( Mohammad MAZED)

ভিডিওটিতে একটি স্থাপনা পার্শ্ববর্তী নদীগর্ভে মিশে যেতে দেখা যায় এবং আড়ালে কিছু মানুষকে চিৎকার করতে শোনা যায়। 

পোস্টটির বাংলা ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, "যেখানে বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির করা হয়েছে। সেই রাম মন্দির আজ পানির সাথে মিশিয়ে যাচ্ছে।"

ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বর্তমানে একটি রাম মন্দির নির্মাণাধীন আছে। 

একই জায়গায় ষোড়শ শতাব্দী নির্মিত বাবরী মসজিদ থাকার কারণে স্থানটির মালিকানা নিয়ে ভারতে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে দীর্ঘদিন দ্বন্দ্ব ছিল।

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯২ সালে কয়েক হাজার হিন্দু মন্দির নির্মাণের দাবিতে বাবরী মসজিদে আক্রমণ করে তা ভেঙ্গে ফেলেন।

ভিডিওটি ফেসবুকে এখানেএখানে একইরকম ক্যাপশন সহকারে শেয়ার করা হয়েছে। 

দাবিটি অসত্য। 

ভিডিওটিতে অযোধ্যার নয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি মন্দির দেখা যাচ্ছে। 

কী-ফ্রেম দিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায় একইরকম ভিডিও ২০১৯ সালের ২৫ অক্টোবর ইউটিউবে পোস্ট করা হয়। 

পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, "আজ একটি শিব মন্দির ধ্বংস হয়ে গেছে।" 

শিরোনামের বর্ণনা অনুযায়ী ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার মথুরাপুরের একটি মন্দিরের।  

নীচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ভিডিও (বামে) ও ইউটিউবে প্রকাশিত ভিডিওর (ডানে) একটি তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেওয়া হলো-

একই ঘটনার অনুরূপ আরেকটি ভিডিও ২০১৯ সালের ২৫ অক্টোবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮ এ প্রকাশিত হয়। 

বাংলা প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, "মালদহে নদীতে ভাঙন, নদীগর্ভে তলিয়ে গেল মন্দির।"

ঘটনাটির স্থান গুগল স্ট্রিটভিউতে এখানে দেখা যাবে। 

নীচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ভিডিও (বামে) ও গুগল স্ট্রিটভিউয়ে মথুরাপুরের মন্দিরের স্থানের (ডানে) একটি তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেওয়া হলো-