এই ভিডিওটি ২০২১ সালে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, এটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে মুসলমানদের উপর হামলার ভিডিও ক্লিপ। আসলে ক্লিপটি বিভ্রান্তিকরভাবে ছড়ানো হচ্ছে; বাংলাদেশের কক্সবাজারে একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার খবরের সাথে আগে থেকে ভিডিওটি অনলাইনে পাওয়া যায়।

গত ১ নভেম্বর ফেসবুকে এখানে ভিডিও ক্লিপটি শেয়ার করা হয়।  

পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, "ইয়া আল্লাহ ত্রিপুরার মুসলমানদের কে হিফাজত করো তাদের জন্য তুমি একজন খালেদ বিন ওয়ালীদের ব্যবস্থা করে দাও।"

খালিদ বিন ওয়ালিদ ছিলেন নবী মুহাম্মদের অধীনে কাজ করা একজন আরব মুসলমান সামরিক কমান্ডার। 

একই ভিডিও ফেসবুকে অপর একটি পোস্টে শেয়ার করা হয় যার অংশবিশেষে লেখা রয়েছে, "এগুলো কোন ছবি থেকে নেয়া না। এটা আমাদের দেশের ত্রিপুরা অঞ্চলের মুসলমানদের বাড়ি ঘর।"

বাংলাদেশে সম্প্রতি হিন্দুদের উপর সহিংসতার জের ধরে গত অক্টোবরে ভারতের দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের ত্রিপুরা রাজ্যে মুসলমানদের মসজিদ ও ঘরবাড়ির উপর হামলা হয়।  

একইরকম দাবি সহকারে ভিডিওটি ফেসবুকে এখানে, এখানে এখানে শেয়ার করা হয় যা দশ হাজারের বেশি দেখা হয়েছে। 

তবে ভিডিওটি অসত্য দাবি সহকারে শেয়ার করা হচ্ছে।

                                                                             রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন

কীওয়ার্ড ও রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায় ক্লিপটি মূলত ২০২১ সালের মার্চে বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘটিত একটি অগ্নিকান্ডের ঘটনার খবরের সাথে অনলাইনে ছড়ায়। 

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২২ মার্চ প্রকাশিত এএফপির প্রতিবেদন রয়েছে এখানে। 

ভিডিওটি মূলত এবছরের মার্চে বাংলাদেশে বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়। দেখুন এখানে এখানে। 

প্রথম পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, "রোহিঙ্গাদের বাড়ি ঘরে কে বা কারা আগুন লাগিয়ে
ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই করে দিয়েছে।"

অপর পোস্টের ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, "২২-০৩-২০২১ইং।"

নীচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ভিডিও (বামে) ও ২৬ মার্চ বাংলাদেশ ভিত্তিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা ভিডিওর (ডানে) তুলনামূলক একটি স্ক্রিনশট দেওয়া হলো-

বাংলাদেশি দু'টি টিভি চ্যানেলের ইউটিউব চ্যানেলেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের প্রতিবেদনের সাথে একইরকম ভিডিও পোস্ট করা হয়। দেখুন এখানে এখানে

কক্সবাজারের উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ ইমদাদুল হক গত ১৯ অক্টোবর এএফপিকে বলেন, "এটি একটি দূর্ঘটনা ছিল এবং আগুনের সূত্রপাত হয় ক্যাম্পের একটি ঘরের রান্নার গ্যাসের স্টোভ থেকে যা আরো গ্যাস সিলিন্ডারের উপস্থিতির কারণে দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।" 

ফেসবুকে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর ভিডিওর দৃশ্যের সাথে এখানে এখানে  অগ্নিকাণ্ড পরবর্তী ক্যাম্পে এএফপির তোলা এই ছবির সাদৃশ্য পাওয়া যায়।

এবছরের অক্টোবরে একই ভিডিও ভিন্ন দাবি সহকারে ফেসবুক ছড়ালে এএফপি থাইল্যান্ড ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন করে।