জাপানের পুরনো ভূমিকম্পের ছবিকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের ভূমিকম্প পরবর্তী দৃশ্য হিসেবে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার
- প্রকাশিত 11 আগস্ট 2026, 13:33
- 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: Rasheek MUJIB, AFP বাংলাদেশ
জুলাই মাসে জাপানের কুমামোতো অঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে বহু প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে এই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ছবিটি ১৫ বছর আগের। তীরে ভেসে আসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের উপর পড়ে থাকা প্রমোদতরির ছবিটি ২০১১ সালের মার্চ মাসে জাপানে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর তোলা হয়েছিল।
২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে একটি ফেসবুক পোস্টে ছড়ানো ফটোকার্ডের উপর জুড়ে দেয়া ক্যাপশনে বলা হয়, “জাপানে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি।”
পোস্টের গ্রাফিক চিত্রে বিধ্বস্ত প্রমোদতরির একটি ছবির ওপরের বাম কোণে একটি মানচিত্র জুড়ে দেয়া হয়, যা জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপে ভূমিকম্পের আঘাত হানার স্থানটি নির্দেশ করে।
একই ছবি অনুরূপ দাবিতে ফেসবুকে অন্যত্র ছড়ানো হয়েছে। এমনকি ইংরেজি ভাষার সংবাদ প্রতিবেদনেও ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে।
২৮ জুলাইয়ের ভূমিকম্পের পর ছবিটি অনলাইনে ছড়ানো হয়। এতে তীব্র দাবদাহপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাড়িঘর, সেতু ধস এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে(আর্কাইভ লিংক)।
ভূমিকম্পে অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে হয় এবং আরও হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎ ও পানি-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন(আর্কাইভ লিংক)। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের পর কুমামোতোর আয়ন শপিং মলে এক বিস্ফোরণে সাতজন নিহত হয়েছেন(আর্কাইভ লিংক)।
জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’-এর পশ্চিম প্রান্তে চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের ওপর অবস্থিত। ২০১৬ সালে কুমামোতো দুটি বিধ্বংসী ভূমিকম্পের কবলে পড়ে। সে সময় ২৭৩ জন নিহত এবং ২ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়।
তবে অনলাইনে ছড়ানো ছবিটি সর্বশেষ ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতির নয়।
২০১১ সালের দুর্যোগ
গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে একই ছবি সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত ডেটাবেস উইকিমিডিয়া কমন্স ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়(আর্কাইভ লিংক)।
ছবির বিবরণ অনুযায়ী, এটি ২০১১ সালের ১৫ মার্চ মাসে মূল দ্বীপ হোনশুর ওফুনাতো শহরে তোলা হয় এবং ইউএস নেভির মাস কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট ফার্স্ট ক্লাস ম্যাথিউ এম ব্র্যাডলিকে ছবিটির ক্রেডিট দেয়া হয়।
একই দিনে এএফপির আলোকচিত্রী তোশিফুমি কিতামুরা অনুরূপ একটি ছবি তুলেছিলেন।
২০১১ সালের ১১ মার্চ তারিখে জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৯ দশমিক শূন্য মাত্রার একটি প্রাণঘাতী ভূমিকম্প আঘাত আনার পর ছবিগুলো তোলা হয়(আর্কাইভ লিংক)।
এই দুর্যোগে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ প্রাণ হারান বা নিখোঁজ হন। যাদের অধিকাংশই ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট বিশাল ঢেউয়ের কবলে পড়েছিলেন।
পরবর্তীতে ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক কেন্দ্রে বিপর্যয়ের ফলে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো তেজস্ক্রিয়তায় ঢেকে যায়। এতে কিছু শহর বছরের পর বছর বসবাসের অযোগ্য হয়ে যায় এবং হাজার হাজার বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ে।
২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ধারণ করা ওফুনাতোর গুগল স্ট্রিট ভিউ ছবির সাথে অসত্যভাবে ছড়ানো ছবিটির হুবহু মিল পাওয়া যায়।
এএফপি ২০২৬ সালের জুলাইয়ের ভূমিকম্প নিয়ে অন্যান্য অসত্য দাবি খণ্ডন করেছে।
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৬। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ