ভারতে অপরাধের স্থল পরিদর্শনের দৃশ্যকে মুসলিম নারী ধর্ষণের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হিন্দু তরুণদের ভিডিও হিসেবে অসত্যভাবে প্রচার
- প্রকাশিত 9 আগস্ট 2026, 14:35
- 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: Eyamin SAJID, Devesh MISHRA, AFP বাংলাদেশ, AFP ইন্ডিয়া
- অনুবাদ এবং অভিযোজন Eyamin SAJID, AFP বাংলাদেশ
পশ্চিম ভারতে একটি অপরাধের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের দৃশ্যকে মুসলিম নারী ধর্ষণের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিন্দু তরুণদের ভিডিও হিসেবে বাংলাদেশে অসত্যভাবে ছড়ানো হয়েছে। তবে ভিডিও ক্লিপের ব্যক্তিরা মহারাষ্ট্রে একটি পরিবারকে হামলা করার দায়ে অভিযুক্ত। তারা এখনো পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন বলে ৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এএফপিকে জানিয়েছেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা।
৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “ভারতে মুসলিম তরুণীকে ধর্ষণ করা হিন্দু ধর্মের ৪ তরণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড ফাঁসির আদেশ দিল আদালত।”
ক্যাপশনে আরও বলা হয় যে, ভারত মুসলিমদের উপর চরম অত্যাচার করে দাবি করে বাংলাদেশে সারাদিন যারা ভারত বিরোধী স্লোগান দিয়ে গলা ফাটায়, ভারতই বাংলাদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালো।
কিন্তু আমাদের দেশে বছর পেরিয়ে গেলেও ধর্ষক ফুলের মালা গলায় নিয়ে জামিন পেয়ে খোলা আকাশে ঘুরে বেড়ায়।
পোস্টের সাথে ছড়ানো ভিডিওতে ভারতীয় কিছু পুলিশ কর্মকর্তাকে যমটুপি ও হাতকড়া পরিহিত কয়েকজন ব্যক্তিকে একটি পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর তাদেরকে আরও কয়েকটি এলাকায় নিয়ে যেতে দেখা যায়।
ভিডিওতে লোকজনকে মহারাষ্ট্রের মারাঠি ভাষায় কথা বলতে শোনা যায়।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে গণঅভ্যুত্থানে নয়াদিল্লির মিত্র সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার সম্পর্ক টানাপোড়েনের মুখে পড়েছে এবং স্থানীয় রাজনীতেতে ভারত বিরোধী মনোভাব একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে(আর্কাইভ লিংক)।
দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দিল্লির হস্তক্ষেপ এবং ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ভারতকে দায়ী করে আসছে(আর্কাইভ লিংক)।
বিপ্লবের মুখে দেশ ছেড়ে পালানোর পর থেকেই হাসিনা ভারতে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং বাংলাদেশ বারবার তার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে আসছে।
ভারত অবৈধ অভিবাসী হিসেবে অভিযুক্ত করে হাজার হাজার মানুষকে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানের চেষ্টা চালালে দুেই দেশের সীমান্তে সম্পর্ক আরও অবনতি ঘটে।
একই দাবিতে ভিডিওটি অন্যত্র ফেসবুক পোস্টে ছড়ানো হয়েছে। কিন্তু এটি ধর্ষণের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া কোন ঘটনার সাথে সম্পর্কিত নয়।
অপরাধের দৃশ্য পুনর্নির্মাণ
অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিওটির কিফ্রেম নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চেে একই ভিডিওটি ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-র অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে পাওয়া যায়, যা ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছিল(আর্কাইভ লিংক)।
এএনআই এর পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “নাশিক, মহারাষ্ট্র: অধিকতর তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের লক্ষ্যে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ভাবালি বাঁধ এলাকায় হামলার ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেছে।”
এতে বলা হয়, একটি পরিবার ১২ জুলাই এলাকাটি ভ্রমণকালে একদল লোক তাদেরকে ধাওয়া করে এবং হামলা করে।
ভারতে অপরাধ সংঘটনস্থল পুনর্নির্মাণ একটি সাধারণ প্রক্রিয়া এবং সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে যে, এটি 'আত্ম-অপরাধে জড়িত হওয়ার বিরুদ্ধে অধিকার' লঙ্ঘন করে না(আর্কাইভ লিংক)।
আরও কিওয়ার্ড সার্চে ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ১৫ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়, “নাশিক মহাসড়কে ভয়াবহতা: অপরাধের দৃশ্য পুনর্নির্মানের জন্য ৯ অভিযুক্তকে ভাবালি বাঁধ এলাকায় নেয়া হয়েছে”(আর্কাইভ লিংক)।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন নারীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় একটি পরিবারকে ধাওয়া করার অভিযোগে অভিযুক্ত নয়জন সন্দেহভাজনকে পুলিশ অধিকতর আলামত সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়।
নাশিক এলাকার পুলিশ সুপার ড. ডি. এস. স্বামী ৪ আগস্ট এএফপিকে জানান যে তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাপ্রবাহ পুনর্গঠন করতে ভিডিওতে দৃশ্যমান সন্দেহভাজনদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
তিনি বলেন, “মহারাষ্ট্রের ইগতপুরীতে ভাবালি বাঁধ ভ্রমণে আসা একটি পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি দল দুর্ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত নয়জনকেই গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্ত বা ভুক্তভোগী—কেউই মুসলিম সম্প্রদায়ের নন।”
“বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় অভিযুক্তরা এখনও কারাগারে রয়েছেন,” বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সাম্প্রদায়িক বিষয় ছড়ানো অন্যান্য বিভ্রান্তিকর দাবি খণ্ডন করেছে এএফপি।
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৬। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ