পুলিশের নাচের ভিডিওটি হিন্দু ধর্মীয় উৎসবের, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী জয় উদযাপনের নয়

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নির্বাচনে হিন্দু-জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি জয় লাভ করেছে। নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যমে হিন্দু ধর্মীয় একটি উৎসবে পুলিশ সদস্যদের নাচার পুরনো একটি ভিডিও পুনরায় ছড়ানো হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা নির্বাচনী ফলাফল উদযাপন করছে বলে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়। তবে মহারাষ্ট্রের একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রার সম্পর্কিত পোস্টে ভিডিওটি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে।

ফেসবুকে ৫ মে ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “বাংলায় ভোটের চূড়ান্ত ফলাফলের পর, পুলিশ। জয় শ্রী রাম।”

পোস্টে যুক্ত একটি ভিডিওর ওপর জুড়ে দেয়া লেখায় বলা হয়, “বাংলার নির্বাচনের ফলাফল দেখার পর মুড।” এছাড়া ভিডিওটির ব্যাকগ্রাউন্ডে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নির্বাচনী প্রচারণায় বিজেপির ব্যবহৃত একটি সংগীত শোনা যায়। 

বিরোধী-শাসিত পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিজেপির বিপুল বিজয় অর্জনের পর ভিডিওটি ছড়াতে শুরু হয়(আর্কাইভ লিংক)।

দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাজ্য শাসনকারী সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এবং বিরোধী দল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে বিজেপির পক্ষে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছে(আর্কাইভ লিংক)।

Image
এএফপির যোগ করা লাল ক্রস চিহ্নসহ ২০ তারিখে নেয়া অসত্য ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

একই দাবিতে ভিডিওটি অন্যত্র ফেসবুকেএক্স এ ছড়ানো হয়েছে। 

কিন্তু ভিডিওটি পুলিশ সদস্যদের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় উদযাপনের নয়। ভিডিওটি চার বছর আগে অন্য একটি রাজ্যে ধারণ করা হয়েছিল। 

অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিওটির কিফ্রেম নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে একটি ইউটিউবে একই ফুটেজ পাওয়া যায়, যা ভিন্ন একটি অডিও ট্র্যাকসহ ২০২২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছিল(আর্কাইভ লিংক)।

ইউটিউব ভিডিওটির শিরোনামে বলা হয়, “গণপতি বিসর্জন পুলিশ নাচ ২০২২ কোলহাপুর পার্ট: -১”। ইউটিউব ব্যবহারকারী ২০২২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল(আর্কাইভ লিংক)।

এএফপি ওই ইউটিউব ব্যবহারকারীর মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করে, কিন্তু প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

Image
অসত্যভাবে ছড়ানো ক্লিপ (বামে) এবং ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ইউটিউবে প্রকাশিত ভিডিওর তুলনামূলক স্ক্রিনশট

একই ফুটেজটি  ২০২২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর অন্য একজন ব্যবহারকারী ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেছেন(আর্কাইভ লিংক)। এছাড়া স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমের ইউটিউবে প্রকাশিত অনুরূপ একটি ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদেরকে উৎসবে অংশ নিতে দেখা যায়(আর্কাইভ লিংক)।

গণপতি বিসর্জন হলো একটি হিন্দু ধর্মী উৎসব, যেখানে হস্তিমুখ দেবতা গণেশেরসম্মানে ১০-দিনব্যাপী গণেশ চতুর্থী উৎসবের সমাপ্তি টানা হয়। উৎসবের অংশ হিসেবে দেবতার প্রতিমাগুলো পানিতে বিসর্জন দেওয়া হয়(আর্কাইভ লিংক)। 

ভিডিওটির ব্যাকগ্রাউন্ডে দৃশ্যমান দোকানের নাম ব্যবহার করে এএফপি ফুটেজটির অবস্থান মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে সনাক্ত করে(আর্কাইভ লিংক)।

Image
অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিও(বামে) এবং কোলাপুরের গুগল স্ট্রিট ভিউর ছবির মধ্যকার মিলগুলো এএফপি কর্তৃক চিহ্নিত করে তুলনামূলক স্ক্রিনশট

এএফপি এর আগেও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে ঘিরে ছড়ানো অপতথ্য খণ্ডন করেছে।    

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ