জাতীয় নির্বাচনের আগে ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা ব্যালট বক্স। (AFP / MOHD RASFAN)

নির্বাচন ‘স্থগিতের’ ভিত্তিহীন দাবি অনলাইনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতীয় নির্বাচনের আগে “ভোট স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে” এমন দাবিতে অনলাইনে গুজব ছড়িয়েছে। কিন্তু দাবিগুলো ভিত্তিহীন। এছাড়া নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 

৭ ফেব্রেুয়ারি ছড়ানো এক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, “আলহামদুলিল্লাহ নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা।” 

একই দিনে কথিত ‘ব্রেকিংনিউজ’ হিসেবে অন্য একজন ফেসবুক ব্যবহারকাারী এক পোস্টে লিখেন, “ইতিমধ্যে গাজীপুরে ৫টি সংসদীয় আসনে  নির্বাচন ভোট স্থগিত।” 

Image
এএফপির যোগ করা ক্রস চিহ্নসহ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নেয়া অসত্য পোস্টের স্ক্রিনশট

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের মানুষ যখন প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে যাচ্ছে তখন একই ধরনের দাবি অন্যত্র ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে(আর্কাইভ লিংক)। 

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি)-কে এই নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে সবচেয়ে অগ্রণী দল হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামিক দল বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলাম বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল। 

তবে অন্তর্বর্তী সরকার হাসিনার রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কারণে, দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না(আর্কাইভ লিংক)। 

ফেসবুক ব্যবহারকারীদেরকে পোস্টগুলোকে বিশ্বাস করতে দেখা যায়। যেমন একজন ব্যবহারকারী লিখেন, “নৌকা ছাড়া কিসের ভোট।”

অন্য একজন লিখেন, “বাংলাদেশের জন্য এটা ভালো খবর।”  

কিন্তু দাবিগুলো অসত্য। নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে(আর্কাইভ লিংক)।

নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ১১ ফেব্রুয়ারি এএফপিকে বলেন, “৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।”

ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, শেরপুরে কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখে একজন প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেন। অনাকাঙ্খিত ওই ঘটনার পর ওই আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে(আর্কাইভ লিংক)।

নির্বাচনী উপকরণ

৭ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি টিভি স্টেশন চ্যানেল আই-এর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন যুক্ত করে নির্বাচন স্থগিতের প্রথম পোস্টটি ছড়ানো হয়(আর্কাইভ লিংক)।

চ্যানেল আইয়ের প্রতিবেদনের ক্যাপশনে বলা হয়, “আওয়ামী লীগকে বাদ দিলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে না: সিপিডি।”

চ্যানেল আই-এর প্রতিবেদন অনুসারে থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জানিয়েছে যে, বাংলাদেশের সমাজের একটি বৃহৎ অংশ - অর্থাৎ যারা হাসিনার দলকে যারা সমর্থন করে -তাদের অংশগ্রহণ না হলে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে (আর্কাইভ লিংক). 

রিপোর্টে নির্বাচন স্থগিত করার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

প্রথম আলোও সিপিডির সংবাদ সম্মেলন সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে নির্বাচন স্থগিতের কোনও উল্লেখ নেই (আর্কাইভ লিংক).

দ্বিতীয় দাবিটির ব্যাপারে কীওয়ার্ড অনুসন্ধানে বাংলা সংবাদপত্র দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনপাওয়া যায়, যেখানে বলা হয়েছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন সরঞ্জাম বিতরণ স্থগিত করেছে(আর্কাইভ লিংক)।

নির্বাচন স্থগিত করার দাবিটি “সম্পূর্ণ মিথ্যা” বলে ১১ ফেব্রুয়ারি এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন গাজীপুরের জেলা কমিশনার মোঃ আলম হোসেন।

তাঁর নির্বাচনী এলাকায় পরিকল্পনা অনুযায়ী ভোটগ্রহণ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ করেছি।”

এএফপি এর আগে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কে অন্যান্য অসত্য দাবিও খণ্ডন করেছে।

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ