A man checks his mobile phone as he walks along a street in Dhaka. (AFP / Jewel Samad)

ভূপাতিত সিরিয়ান কপ্টারের ভিডিওকে ইসরায়েলি বিমানে হামলার ভুল তথ্যের সাথে বাংলাদেশে ছড়ানো হচ্ছে

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বেশকিছু পোস্টের সাথে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, আকাশে একটি হেলিকপ্টারে আগুন জ্বলছে এবং হেলিকপ্টারটি এদিক ওদিক ঘুরপাক খেয়ে নিচের দিকে পতিত হচ্ছে। ১৭ মে থেকে ভিডিওটি বিভিন্ন পেজ ও প্রোফাইল থেকে পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে যে, এটি ‘মুসলমান মুজাহিদদের দ্বারা ভূপাতিত করা ইসরায়েলি বিমান’। দাবিটি সত্য নয়। ভিডিওটি মূলত ২০২০ সাল থেকেই অনলাইনে দেখতে পাওয়া যায়; গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারিতে সিরিয়ার ইদলিবে বিদ্রোহীদের হাতে সিরিয়ান সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনের সাথে ভিডিওটি পাওয়া যায়।

সম্প্রতি মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করলে ভিডিওটি ফেসবুকে এখানে, এখানেএখানে অসত্য দাবি সহকারে পোস্ট করা হয়। 

গত ২১ মে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনী হামাসের মধ্যে চলা ১১ দিন ব্যাপী যুদ্ধে শতাধিক ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছেন।

৩০০ বারের বেশি শেয়ার হওয়া একটি ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে: ''আলহামদুলিল্লাহ ইসরাইলের বিমান ধ্বংস করেছে। মুসলিম মুজাহিদ ভাইয়েরা।''

স্ক্রিনশটে পোস্টটি দেখুন-

ফেসবুক পোস্টে করা এই দাবিটি আসলে অসত্য। 

ফেসবুকে ছড়ানো ভিডিওটির কী-ফ্রেম দিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ চালিয়ে দেখা যায় ভিডিওটি ২০২০ সাল থেকেই অনলাইনে আছে। উদাহরণস্বরূপ ব্রিটেনের স্কাই নিউজের ভিডিওসহ এই প্রতিবেদনটির কথা বলা যায়।

২০২০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি 'Syrian military helicopter shot down by rebels' শিরোনামে স্কাই নিউজ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

অধিকতর অনুসন্ধানের জন্য গুগলে কীওয়ার্ড সার্চ করে এ সংক্রান্ত আরো সংবাদ পাওয়া যায়। 'Turkey-backed Rebels Down Syrian Army Helicopter as Fighting Escalates' শীর্ষক ইসরায়েল ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম হারেতজের ২০২০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারীর প্রতিবেদনটি দেখুন এখানে। প্রতিবেদনটি অনুযায়ী তুরস্ক সমর্থিত ইদলিবের বিদ্রোহীরা সিরিয়ান বিমান বাহিনী তথা সিরিয়ান আরব এয়ার ফোর্সের একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার সেদিন ধ্বংস করে এবং এতে হেলিকপ্টারটির ক্রুরাও নিহত হন। হারেতজের প্রতিবেদনেও একই ভিডিও আছে।  

২০২০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বার্তা সংস্থা এপির ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড হওয়া 'Syria rebels claim downing of government chopper' শিরোনামের প্রতিবেদনেও একই ভিডিও ক্লিপ পাওয়া গেছে। 

এর আগে একই ভিডিও মায়ানমারের বলে অনলাইনে ছড়ানো হলে বার্তা সংস্থা এএফপি তা খন্ডন করে। দেখুন এখানে।