কাঁধ-ব্যাগ দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা ছবিটি ইতালিয়ান জাদুঘরের নয়, যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রদর্শনীর

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

দেয়ালে বেশ কিছু কাঁধ-ব্যাগ ঝুলিয়ে রাখার একটি ছবি ফেসবুকে শতাধিক পেইজ ও প্রোফাইল থেকে পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে এটি ইতালির একটি জাদুঘরের দৃশ্য যেখানে অবৈধপথে ইউরোপ পাড়ি দিতে গিয়ে সমুদ্রে মারা যাওয়া অভিবাসীদের ব্যাগ সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। দাবিটি সঠিক নয়। বরং ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রদর্শনীতে তোলা যেখানে দেশটির মেক্সিকো সীমান্ত থেকে অভিবাসীদের কুড়িয়ে পাওয়া ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিসপত্র প্রদর্শন করা হয়েছিল।

গত ১৩ ডিসেম্বর ছবিটি এখানে পোস্ট করা হয়।

বাংলা ভাষায় ক্যাপশনে লেখা হয়েছে: "অবৈধপথে ইউরোপ পাড়ি দিতে গিয়ে সমুদ্রে মারা যাওয়া অভিবাসীদের ব্যাগ সংগ্রহ করে ইতালির ল্যাম্পেডুসা দ্বীপে ইতালিয়ান মিউজিয়ামের ভিতরে রাখা হয়েছে। এখানে অনেক হতভাগা বাংলাদেশীও ছিলেন।"

এর আগে চলতি ডিসেম্বরেই ছবিটি একইরকম দাবিসহকারে ফ্রেঞ্চ এবং ইংরেজি ভাষায়ও ছড়িয়েছিল।

বাংলায় ছবিটি ফেসবুকে এখানেএখানে পোস্ট করা হয়েছে।

কিন্তু ছবিটি ভুল প্রসঙ্গে ছড়িয়েছে।

'স্ট্যাট অব এক্সেপশন' প্রদর্শনী

রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ২০১৮ সালে প্রকাশিত “The Human Condition Through Arts and Humanities” শিরোনামের এই রিপোর্টে ছবিটি পাওয়া গেছে। এই নিবন্ধে ''স্ট্যাট অব এক্সেপশন'' সম্পর্কে একটি সেকশন রয়েছে যেখানে বলা হয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত থেকে সংগৃহীত কয়েকশত কাঁধ ব্যাগ একটি দেয়ালে শৈল্পিকভাবে তুলে ধরা একটি প্রদর্শনী।

মিশিগান ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর দ্য হিউম্যানিটিজ এর "An Exhibition of the Undocumented Migration Project" নামক প্রকল্পের আওতায় এসব ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিসপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল।

একই ছবি মিশিগান ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে ২০১৭ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছিল।

ইনস্টিটিউটের শিল্পসংরক্ষক আমান্দা ক্রুগলিয়াক এএফপি'কে বলেছেন, "মূল স্ট্যাট অব এক্সেপশন প্রদর্শনীটি-- যা আমি, রিচার্ড বারনেস এবং জেসন ডি লিওন এই তিনজনের যুক্ত প্রকল্প-- ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছিল।"

পরবর্তীতে ২০১৩ সালে এই শিল্পকর্মটি নিয়ে ফিচার প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস ম্যাগাজিন এবং ২০১৫ সালে আর্টপ্রাইজ-এ এটি ল্যাটিনক্স স্পিরিট অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী হয়।

মিশিগান ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর দ্য হিউম্যানিটিজ এর মূখপাত্র স্টেফানি হ্যারেল গত ১৩ ডিসেম্বর এএফপি'কে জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নিউইয়র্কে পারসন্স স্কুল অব ডিজাইনে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়েছিল।

InVID WeVerify টুল দিয়ে ছবিটির মেটাডাটা যাচাই করে এএফপি নিশ্চিত হয়েছে যে, ছবিটি ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তোলা, এবং ওইদিনই পারসন্স স্কুল অব ডিজাইন-এর ফেসবুক পেইজ থেকে লাইভ সম্প্রচার করা ফুটেজে দেয়ালে রাখা ব্যাগগুলো দেখা যায়।

ভূমধ্যসাগরে মৃত্যু

ইউরোপে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীদের ডুবে মৃত্যুর ঘটনা প্রায়শই ঘটছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্য মতে, চলতি বছর অন্তত ৬১৪ জন ইউরোপে পাড়ি দেয়ার চেষ্টার সময় ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা গেছেন। তাদের মরদেহ এবং অন্যান্য জিনিসপত্র ল্যাম্পেদুসা সহ ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় পাওয়া গেছে।  

ল্যাম্পেদুসা ইতালির একটি দ্বীপ যা তিউনিশিয়া উপকূল থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং সাহারা মরুভূমির লিবিয়া ও তিউনিশিয়ান অংশ থেকে অভিবাসীরা দীর্ঘ্য সাগর পাড়ি দিয়ে এই দ্বীপে এসে পৌঁছায়।

ছবিটি ইতালির সাথে সম্পর্কিত নয়

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থসহায়তায় পরিচালিত মিডিয়া আউটলেট ইনফোমাইগ্রেন্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ল্যাম্পেদুসার একটি জাদুঘরে অভিবাসীদের ফেলে যাওয়া বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা হয়। 

কিন্তু ফেসবুকে ছড়ানো ছবিটির সাথে ল্যাম্পেদুসার সেই জাদুঘরের কোন সম্পর্ক নেই।