ভারতে তোলা এই ছবিতে অতিথি আপ্যায়নে ব্যস্ত একজন হিন্দু পুরোহিতকে দেখা যাচ্ছে
- নিবন্ধটি চার বছরেরও বেশি পুরনো।
- প্রকাশিত 8 ডিসেম্বর 2021, 07:58
- 1 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: এএফপি বাংলাদেশ, এএফপি ইন্ডিয়া
গত ১৯ অক্টোবর ফেসবুকে এখানে ছবিটি শেয়ার করা হয়।
পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, "এই হলেন স্বামী নিতাই দাস প্রভু যিনি গত শনিবার বাংলাদেশের ইসকন মন্দিরে হামলায় নিহত হন। স্বামী নিতাই দাস প্রভু প্রতি বছর রোজার সময় মুসলমানদের ইফতার ডিনার পরিবেশন করতেন।"
ইসকন তথা আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ হলো একটি হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন যা হরে কৃষ্ণ আন্দোলন নামেও পরিচিত।
ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, মুসলমানদের পোশাক পরিহিত কয়েক ব্যক্তিকে একজন পুরোহিত আপ্যায়ন করাচ্ছেন।
গত অক্টোবরে বাংলাদেশে হিন্দুদের দুর্গাপূজার সময় কোরআন অবমাননার অভিযোগে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে সহিংসতার ঘটনার প্রেক্ষিতে পোস্টটি অনলাইনে ছড়ায়।
এই সহিংসতায় দেশের নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জে হিন্দু মন্দিরে হামলার ঘটনায় দু'জন হিন্দু নিহত হন।
ছবিটি একইরকম দাবি সহকারে ফেসবুকে এখানে ও এখানে পোস্ট করা হয়।
পোস্টগুলো বিভ্রান্তিকর।
গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চ ও কীওয়ার্ড সার্চে দেখা যায় এই ছবিটি ২০১৬ সালের ৪ জুলাই ইউসিএ নিউজের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল: "হিন্দুদের আয়োজনে মুসলমানদের জন্য ইফতার।"
প্রতিবেদনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় ইসকনের একটি মন্দিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উল্লেখ রয়েছে।
নীচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ছবি (বামে) ও ইউসিএ নিউজে প্রকাশিত ছবির (ডানে) একটি তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেওয়া হলো:
ভারতে ইসকনের যোগাযোগ পরিচালক যুধিষ্ঠির গোবিন্দ দাস এএফপি'কে বলেন, এই ছবিটি পশ্চিমবঙ্গে তোলা।
তিনি ছবির এই পুরোহিতকে ক্রোয়েশিয়ার ইসকন ভক্ত ইভান অ্যান্টিচ বলে সনাক্ত করেন। ইভান অ্যান্টিচন একইসাথে চৈতন্য নিতাই দাস নামেও পরিচিত।
গোবিন্দ বলেন, "সম্প্রতি বাংলাদেশে মন্দিরে হামলায় নিহত দুই ইসকন সদস্যের মধ্যে ইভান ছিলেন না।"
এ ব্যাপারে ইভান অ্যান্টিচের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এএফপি'কে নিশ্চিত করেন যে, এই ছবিতে তাকে দেখা যাচ্ছে।
গত ১৭ অক্টোবর ইসকনের এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে নিহত দুই হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে প্রান্ত চন্দ্র দাস এবং যতন চন্দ্র দাস হিসেবে চিহ্নিত করে।
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৫। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ