ছবিটি ভারতে দলিত যুবকদের উপর নির্যাতনের, মুসলমানদের নয়

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে বেশ কিছু পোস্টে হাত বাঁধা চার ব্যক্তির একটি ছবি শেয়ার হয়েছে এবং দাবি করা হচ্ছে ছবির চার ব্যক্তি মুসলমান। দাবিটি অসত্য; ২০১৬ সাল থেকে ভারতের গুজরাট প্রদেশে 'গো-রক্ষক'দের হাতে চার দলিত যুবক নির্যাতিত হওয়ার খবরের সাথে ছবিটি সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন সময় এসেছে।

গত ২৯ আগস্ট ফেসবুকে একটি পোস্টে ছবিটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখা হয়, ''এই হলো ভারতীয় মুসলমান ভাইদের অবস্থা, আল্লাহ আপনি তাদের হেফাজত করুন আমিন।''

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অধীনে বেশ কিছুদির ধরে ভারতে মুসলমানরা বিদ্বেষ ও বঞ্ছণার শিকার হওয়ার অভিযোগ করে আসছেন

অ্যাক্টিভিস্টদের অভিযোগ যে ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুসলমানদের উপর নির্যাতন বেড়েছে যার অধিকাংশই উস্কানি ছাড়াই সংঘটিত হয়েছে।

একই দাবিসহ ছবিটি ফেসবুকে এখানেএখানে শেয়ার করা হয়। ২০১৯ সালের জুলাই মাসেরও এরকম একটি পোস্ট পাওয়া যায়।

দাবিটি অসত্য।

গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে ভারতের গুজরাটে 'গো-রক্ষক'দের কর্তৃক দলিত একটি পরিবারকে নির্যাতনের কিছু সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

'গো-রক্ষক' বলতে সেসব হিন্দু কট্টরপন্থীদের বোঝানো হয় যারা গরু জবাই অথবা গো-মাংস খাওয়ার অভিযোগে মানুষের উপর নির্যাতন চালায়।

দলিতরা হলো ভারতীয় হিন্দুধর্মের কৌলিণ্য প্রথার সবচেয়ে নীচু বর্ণ যাদেরকে 'অস্পৃশ্য' মনে করা হয়। দীর্ঘদিন থেকে দেশটিতে দলিতরা বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন।

বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের অনুরূপ একটি ছবি ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই প্রকাশিত মুসলিম মিররের এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, ''উনার ঘটনায় গুজরাটে দলিতদের উপর অত্যাচারের মুখোশ উন্মোচন।''

এএফপি ছবিটির মূল উৎস খুঁজে পায়নি, তবে একই ঘটনার অন্যান্য প্রতিবেদনে একইরকম একটি ছবি পাওয়া যায়। ২০১৬ সালের ১৩ জুলাই প্রকাশিত ইন্ডিয়া টাইমসের এই প্রতিবেদনটি দেখুন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রলে'র একটি প্রতিবেদনে ছবিটি টুইটারে সৌজন্যে প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনটিতে গুজরাটের গার সোমনাথ জেলার উনা শহরে দলিতদের নির্যাতনের জন্য তিন 'গো-রক্ষক' সদস্যকে গ্রেফতারে খবর রয়েছে।

ছবির এই চার ব্যক্তির পেছনে দৃশ্যমান সাইনবোর্ডেও গুজরাটি ভাষায় 'উনা পুলিশ স্টেশন' লেখা রয়েছে।

নীচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ছবি (বামে) ও মুসলিম মিররে'র ছবির (ডানে) একটি তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেওয়া হলো-

টাইমস অব ইন্ডিয়াইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সেসময় ঘটনাটির খবর আসে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দলিত পরিবারটিকে 'সারভাইয়া' নামে উল্লেখ করা হয় এবং বলা হয় গরু হত্যার অভিযোগে তাদের মধ্যে চার জনকে একটি এসইউভি গাড়ির সাথে বেঁধে লাঠি সদৃশ বস্তু দিয়ে পেটানো হয়।

ভিন্ন অবস্থান থেকে নেওয়া একই ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ২০১৬ সালের ১৩ জুলাই 'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস' এর ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা হয়।

ভারতীয় টিভি চ্যানেল এনডিটিভির একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্যাতনকারীরা দলিতদের একজনকে মুসলমান বলে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করার চেষ্টা চালালেও সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিবেদনেই নির্যাতিতদের দলিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

দিল্লি ভিত্তিক এক সাংবাদিকের এই টুইটে দেখা যায় বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টে ব্যবহৃত ছবিটি দলিতদের উপর বৈষম্যের প্রতিবাদে করা একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ব্যানারেও ব্যবহৃত হয়েছে।