এই ভিডিওটি কাজাখস্তানের একটি বিস্ফোরণের, কাবুলের নয়

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

গত ২৬ আগস্ট কাবুল বিমানবন্দরে একটি বোমা বিস্ফোরণ সংক্রান্ত খবরের সাথে বেশ কিছু ফেসবুক পোস্টে আট সেকেন্ডের ভয়াবহ বিস্ফোরণের একটি ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করা হয়েছে। ফুটেজটি মূলত ভুল প্রেক্ষিতে ব্যবহৃত হয়েছে। একই দিন কাজাখস্তানে ঘটা অন্য একটি বিস্ফোরণের সংবাদ প্রতিবেদনের সাথে ওই ফুটেজটি পাওয়া গেছে।

গত ২৭ আগস্ট বাংলায় একটি ফেসবুক পোস্টে ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে: ''আত্মঘাতী বিস্ফোরণ কাবুলে! বিমানবন্দরের বাইরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।''

ফুটেজটি একইরকম দাবি সহকারে ফেসবুকে এখানে এখানে এবং টুইটারে ও ইউটিউবে এখানে এখানে পোস্ট করা হয়েছে।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে অবস্থিত বিমানবন্দরের বাহিরে ঘটা দুটো বিস্ফোরণের ঘটনায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনার পর থেকে ভিডিওটি অনলাইনে ছড়াতে থাকে। এ সংক্রান্ত খবর পড়ুন এএফপি'র এই প্রতিবেদনে

কিন্তু প্রতৃকপক্ষে এই ফুটেজে দৃশ্যমান বিস্ফোরণটি কাবুল বিমানবন্দরের বিস্ফোরণের নয়। ফুটেজটি কাজাখস্তানের শহর তারাজের একটি সামরিক স্থাপনায় ঘটা বিস্ফোরণ সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদনের সাথে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা গেছে, ২৬ আগস্ট আল জাজিরার এই প্রতিবেদনে ফুটেজটি ব্যবহার করা হয়েছিল। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারাজ শহরের এক সামরিক স্থাপনায় পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে যেগুলোতে ৬০ এর অধিক মানুষ আহত হন।

কাজাখস্তানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুসলান শেকবায়েব এর বরাতে রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সামরিক ওই স্থাপনায় প্রোকৌশলগত উদ্দেশে প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক মজুদ করা ছিল।

কাজাখ সংবাদ সংস্থা কাজিনফর্ম এর তারাজের বিস্ফোরণ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনেও একটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে যা ভাইরাল হওয়া ভিডিওর দৃশ্যের সাথে মিলে যায়।

তারাজের বিস্ফোরণের বিভিন্ন ফুটেজ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেল আপলোড করা হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ান রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম আরটি এর ইউটিউব চ্যানেলেও এই ভিডিও আপলোড করা হয়।

নিচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্ট (বামে) এবং আরটি এর ইউটিউবে পোস্ট করা ভিডিওর (ডানে) তুলনামূলক দুটি স্ক্রিনশট দেখুন:

এ সংক্রান্ত এএফপি'র ইংরেজি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনটি পড়ুন এখানে

এএফপি আর আগে কাবুল হামলা এবং আফগানিস্তান সংক্রান্ত আরও কয়েকটি ভুল তথ্য খণ্ডন করেছে। দেখুন এখানে, এখানে এখানে

আফগানিস্তান