এটি ২০১৯ সালে এক ফুটবল ম্যাচে ইরাকের পরাজয়ের পর ফটোগ্রাফারের কান্নার ছবি

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।
  

ফেসবুকে বেশকিছু পোস্টে একটি ছবির কোলাজ শেয়ার করা হয়েছে যেখানে দাবি করা হয় যে, বার্সেলোনায় আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে কান্না দেখে স্প্যানিশ এক সাংবাদিক নিজেও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন। দাবিটি অসত্য; ২০১৯ সালে এশিয়া কাপ ফুটবলে কাতারের কাছে ইরাকের পরাজয়ের পর ফটোগ্রাফার মুহাম্মদ আল আজ্জাওয়ির কান্নার দৃশ্য এটি।   

গত ৮ আগস্ট ২০২১ ফেসবুকে এখানে ছবির কোলাজটি শেয়ার করা হয়।

( Qadaruddin SHISHIR)

পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা আছে, ''মেসির বিদায়ি সম্মেলনে মেসির কান্না দেখে নিজেকেও কন্ট্রোল করতে পারেনি এই স্পেনিশ সাংবাদিক।''

গত রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বার্সা ছাড়ার ঘোষণা দেয়ার সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন লিওনেল মেসি। বার্সেলোনাতেই তিনি তার ২০ বছরের পুরো ক্যারিয়ার কাটিয়েছেন।  

৩৪ বছর বয়সী ৬ বারের ব্যাল ডি অর বিজয়ী এই ফুটবলার জুনের পর থেকে কোন চুক্তিতে ছিলেন না। গত ৫ আগস্ট বার্সেলোনার পক্ষ থেকে জানানো হয় যে মেসির সাথে চুক্তি নবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। মেসিও জানিয়েছেন ফ্রেঞ্চ ক্লাব পিএসজি তে যাওয়ার একটি সম্ভাবনা আছে। 

একই দাবি সহকারে ছবির কোলাজটি ফেসবুকে এখানে, এখানেএখানে শেয়ার হয়। 

থাইল্যান্ড, নাইজেরিয়াজিম্বাবুয়েতেও একই দাবিসহকারে ছবির কোলাজটি পোস্ট করা হয়। 

দাবিটি অসত্য; মূলত ২০১৯ সালে এশিয়া কাপে কাতারের কাছে ইরাকের পরাজয়ের পর ইরাকি এক ফটোগ্রাফারের কান্নার দৃশ্য এটি।

প্রথম ছবি

গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায় যে কোলাজটির প্রথম ছবিটি ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারী এএফসি এশিয়া কাপের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করা হয়। 

একই ছবি এশিয়া কাপের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকেও টুইট করা হয়। টুইটটির ক্যাপশনে লেখা আছে: ''সিক্সটিন রাউন্ডে কাতারের বিরুদ্ধে খেলার সময় ইরাকি ফটোগ্রাফারের আবেগপ্রবণ দৃশ্য।''

২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারী কাতার ইরাককে ১-০ গোলে পরাজিত করে এশিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌছায়। 

নীচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্ট (বামে) ও এশিয়া কাপের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা ছবির (ডানে) একটি তুলনামূলক স্ক্রীনশট দেওয়া হলো:

দ্বিতীয় ও তৃতীয় ছবি:

রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, একই ফটোগ্রাফারের গাল বেয়ে অশ্রু পড়ার দৃশ্যের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ছবি দুটি চীনের সংবাদমাধ্যম সিনা স্পোর্টস এর ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারীর একটি প্রতিবেদনে পাওয়া যায়। কাতারের কাছে ইরাকের পরাজয়ের এই খবরে অস্পোর্টস ফটো এজেন্সীর বরাতে ছবিটি প্রকাশিত হয়।

তৃতীয় ছবিটি অস্পোর্টসের চীনা সামাজিক মাধ্যম উইবোর অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টেও ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারী পোস্ট করা হয়। 

চীনা ভাষার পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা হয়: ''২০১৯ এশিয়া কাপ। কান্নারত এই ইরাকি ফটোগ্রাফার মানুষকে আবেগাপ্লুত করে দেন। ফুটবল আসলেই মানুষকে কাঁদাতে পারে। আমাদের ফটোগ্রাফার শুই জে কে অভিনন্দন এমন ছবির জন্য।''

নীচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্ট (বামে) ও সিনা স্পোর্টস থকে প্রকাশিত অস্পোর্টসের ছবির (ডানে) একটি তুলনামূলক স্ক্রীনশট দেওয়া হলো:

এএফপি আরো রিভার্স ইমেজ ও কীওয়ার্ড সার্চ করে বিভিন্ন প্রতিবেদন পায় যেখানে এই ফটোগ্রাফারের নাম মুহাম্মদ আল আজ্জাওয়ি বলে উল্লেখ আছে। 

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারীতে ইরাকি টেলিভিশন চ্যানেল আল ইরাকিয়ার সাথে এক সাক্ষাতকারে আজ্জাওয়ি জানান, সেদিন ইরাকের পরাজয় জেনে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। 

এফসি বার্সেলোনার ওয়েবসাইটে মেসির সংবাদ সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে যেখানে কোনো সাংবাদিক বা ফটোগ্রাফারকে কাঁদতে দেখা যায়নি।

একই ছবি এর আগেও বিভ্রান্তিকর দাবিসহ ছড়িয়েছিল। ২০২১ সালের মে মাসে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের সংঘাত চলাকালীন ছবি তোলার সময় এক সাংবাদিকের কান্নার দৃশ্য বলে ছড়ালে এএফপি সেসময় ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন করে।