এই ছবিটি একটি মসজিদে হামলার খবরের সাথে ২০১৬ সাল থেকেই অনলাইনে রয়েছে

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

ফেসবুকে একটি ছবি হাজার হাজার বার শেয়ার হয়েছে যেখান দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের একটি মসজিদে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের হামলার পরের ছবি এটি। গত কয়েকদিন থেকে কুমিল্লায় ধর্মীয় সহিংসতার প্রেক্ষিতে ছবিটি শেয়ার করা হচ্ছে। কিন্তু ছবিটি বিভ্রান্তিকর; ২০১৬ সাল থেকে এটি অনলাইনে রয়েছে। যদিও সেসময় কুমিল্লায় মসজিদে হিন্দুদের হামলার খবর নির্ভরযোগ্য কোন সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।

গত ১৩ অক্টোবর ফেসবুকে এখানে ছবিটি শেয়ার করা হয়। 

পোস্টটি ইতোমধ্যে ৩৮ হাজার বারের বেশি শেয়ার হয়েছে।

পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, ''কুমিল্লায় এক মসজিদে ঢুকে হিন্দুরা কুরআন শরীফ ছিড়ে মলমূত্র ত্যাগ করে আসলো কাদের ছায়াতলে? কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল গ্রামের একটি জামে মসজিদে মল-মূত্র ত্যাগ, ২৫/৩০ টি কোরআন শরীফ ছিড়ে ফেলা, কোরআন রাখার রেল ও মসজিদের ৪ টি জানালার গ্লাস ভাংচুর করার খবর পাওয়া গেছে।''

বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দূর্গা পূজা চলাকালীন পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়ার একটি ফুটেজ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর অক্টোবরের মাঝামাঝিতে দেশের কয়েক জায়গায় ধর্মীয় সহিংসতার ঘটনা ঘটে। 

ছবিটি একইরকম দাবিসহ ফেসবুকে এখানে, এখানেএখানে শেয়ার করা হয়। 

তবে ছবিটি বিভ্রান্তিকরভাবে শেয়ার করা হচ্ছে।

গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চে ছবিটি ২০১৬ সালের একটি ফেসবুক পোস্টে পাওয়া যায়।

পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, ''কুমিল্লায় মসজিদে মলমূত্র ত্যাগ, কোরআন শরীফ অবমাননা!
 
আরও লেখা হয়েছে: ‘‘কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল গ্রামের একটি জামে মসজিদে মল-মূত্র ত্যাগ, ২৫/৩০ টি কোরআন শরীফ ছিড়ে ফেলা, কোরআন রাখার রেল ও মসজিদের ৪ টি জানালার গ্লাস ভাংচুর করার খবর পাওয়া গেছে।''

নিচে চলতি অক্টোবরে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্ট (বামে) এবং ২০১৬ সালের ফেসবুক পোস্টের তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেয়া হলো:

এএফপি বাংলাদেশের স্থানীয় একটি অনলাইন পোর্টালের ২০১৬ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও একই ছবি খুঁজে পেয়েছে।

প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, ''ব্রাহ্মণপাড়ায় মসজিদে মল ত্যাগ ও কোরআন শরীফ অবমাননাসহ জানালা ভাংচুর করে দুর্বৃত্তরা।''

২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় এবং সেখানে হামলাকারীদেরকে 'অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

তবে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য কোন সংবাদমাধ্যমে হিন্দুদের কর্তৃক মসজিদে হামলার কোন খবর এএফপি খুঁজে পায়নি।