এএফপিতে ফ্যাক্ট-চেকিং

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা হিসেবে এএফপি’র ১৮০ বছরের কার্যক্রমে ফ্যাক্টচেকিং একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আছে।

ফরাসি আইনের অধীনে এই প্রতিষ্ঠানটির একটি স্বতন্ত্র অবস্থান আছে যার ফলে কোনো তথ্যের সত্যতা কিংবা নিরপেক্ষতার প্রশ্নে এএফপি কোনো অবস্থাতেই কোনো কিছু দ্বারা প্রভাবিত হতে পারবেনা। কোনো অবস্থাতেই এই প্রতিষ্ঠানটি যেকোনো প্রকার আদর্শিক, রাজনৈতিক কিংবা অর্থনৈতিক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন হতে পারবে না। আইনটিতে আরো বলা হয়েছে যে, এএফপি ফরাসিসহ অন্যান্য ভাষাভাষীদের জন্য অবাধে ও নিয়মিতভাবে যথাযথ, নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাস্ত তথ্য সরবরাহ করবে।

এএফপি’র ব্যবস্থাপনা দলটির নেতৃত্বে আছেন একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (বর্তমানে ফ্যাব্রিস ফ্রাইস), একজন বৈশ্বিক সংবাদ পরিচালক (বর্তমানে ফিল চেটউইন্ড) এবং একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (বর্তমানে দালিলা জেইন)। পুরো তালিকাটি দেখা যাবে এখানে

এছাড়া এএফপি’র একটি পরিচালনা পর্ষদও রয়েছে যেখানে মিডিয়া, জনসেবা (সরকারি বিভাগসহ) ও কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিরা থাকেন। এছাড়া এএফপি কাউন্সিল কর্তৃক অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানের ভিত্তিতে মনোনীত ৫ জন স্বাধীন সদস্যকেও সেই পর্ষদে যুক্ত করা হয়। পর্ষদটির বোর্ড এবং কাউন্সিল সদস্যদের তালিকা দেখা যাবে এখানে

অনলাইনে ভুয়া তথ্য এবং গুজবের প্রসার মোকাবেলায় ফ্যাক্ট চেকিং এ জোর দিতে আমরা একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছি। মূলত ২০১৭ সালের ফ্রান্সের নির্বাচনকালীন সময়ে পুরস্কারজয়ী প্রতিষ্ঠান ‘ক্রসচেক’ এর সাথে সম্মিলিত একটি কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে আমরা ওয়েবসাইটটি তৈরিতে অনুপ্রাণিত হই।

আমরা সাধারণ মানুষ এবং সংবাদমাধ্যমগুলোকে সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট, খবর, ভিডিও কিংবা বক্তব্যে পাওয়া তথ্যের সত্যাসত্য নিশ্চিত করতে সহায়তা করি।
 
সংবাদ সংস্থা এএফপি’র সম্পাদকীয় নীতি এবং নির্দেশনা অনুসরণ করে বিশ্বব্যাপী আমাদের ফ্যাক্টচেক সম্পাদক এবং প্রতিবেদকরা এই কাজটি বাস্তবায়ন করে থাকেন।

এই নীতিমালায় বলা আছে, “এএফপি’র সাংবাদিকরা নির্ভুল, ভারসাম্যপূর্ণ এবং নিরপেক্ষ সংবাদ প্রচার করবেন এবং কোন ভুল হলে তা দ্রুত এবং স্বচ্ছতার সাথে সংশোধন করবেন। আরো বলা আছে, “আমাদের সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে এবং সকল প্রকার পূর্ব-ধারণা, পক্ষপাতিত্ব কিংবা বাহ্যিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থেকে কথা বলবেন।'' এই নীতিমালার যথাযথ সম্মান করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক দায়িত্ব থেকে অপসারিত হতে পারেন।

প্যারিসে অবস্থিত এএফপি'র প্রধান কার্যালয়ে নিযুক্ত ডিজিটাল ভেরিফিকেশনের প্রধান সম্পাদকরা হংকং, ওয়াশিংটন ডিসি, বৈরুত, জোহানেসবার্গ এবং মন্টেভিডিও এর আঞ্চলিক সম্পাদকদের সাথে মিলে মূলত সংস্থাটির ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম তদারকি করেন।
 
প্রধান সম্পাদক, ডিজিটাল ভেরিফিকেশন: গ্রেগোয়ের লেমারচান্দ

সহকারি প্রধান-সম্পাদক: সোফি নিকোলসন এবং পওলিন তালাগ্রান্দ

আঞ্চলিক প্রধান: ক্যাট বার্টন (এশিয়া প্যাসিফিক), ইলোডি মার্টিনেজ (লাতিন আমেরিকা), নিনা ল্যাম্পারস্কি (আফ্রিকা), ব্রনওয়েন রবার্টস (ইউরোপ), খালেদ সোবেহ (মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকা) এবং আর্থার ম্যাকমিলান (উত্তর আমেরিকা)। 

অন্যরাও যাতে ফ্যাক্টচেকিং এবং ভেরিফিকেশন করতে পারেন এজন্য আমরা নানাভাবে বিভিন্ন টুলস এবং টিপস শেয়ার করে থাকি।
 
আমরা যেকোনো তথ্য যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কিছু মানদণ্ড মেনে চলি; এর মধ্যে আছে যে, এটির সম্পাদকীয় চাহিদা কেমন, তথ্যটি কেমন ছড়িয়েছে এবং সাধারণ মানুষের আলাচনায় সেটি উপস্থিত আছে কিনা। 
 
এছাড়া যেকোনো ভুয়া তথ্য সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য, জীবন কিংবা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্যে হুমকি বলে মনে হলে সেটিকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করি। এছাড়া ক্ষতিকর বিদ্বেষমূলক এবং বর্ণবাদী বক্তব্যের ক্ষেত্রেও আমরা একইরকম গুরুত্ব দেই।
 
এএফপি ফেসবুকের থার্ড পার্টি ফ্যাক্টচেকিং কার্যক্রমেরও একটি অংশ। আমরা যেসব অনুসন্ধান করে থাকি তার একটি অংশ হিসেবে আমরা ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট ‘ফ্ল্যাগ’ করে থাকি। ফ্যাক্টচেকারদের মাধ্যমে কোনো পোস্টে ‘ফলস’ ট্যাগ দেয়া হলে এটি ফেসবুকের নিউজফিডে কম দৃশ্যমান হয়, ফলে খুব কম লোক সেটি দেখতে পারে। তবে ‘ফ্লাগিং’ এর কারণে কোনো কন্টেন্ট সরিয়ে নেয়া হয় না। আমাদের ফ্যাক্টচেকিং প্রোগ্রাম সরাসরি ফেসবুকের সহায়তা নিয়ে কাজ করে থাকে।

এএফপি আইএফসিএন এর নীতিমালা স্বাক্ষরকারী একটি প্রতিষ্ঠান। এই নীতিমালার মধ্যে রয়েছে নিরপেক্ষতা, ন্যায্যতা, তথ্যের উৎসের স্বচ্ছতা, অর্থায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা, কর্মপদ্ধতি এবং কাজে ভুল সংশোধনের খোলামেলা এবং সততা নিশ্চিত করা।

আপনার যদি মনে হয় এএফপি আইএফসিএনের নীতিমালা যথাযথভাবে মেনে চলছে না, সেক্ষেত্রে এখানে সরাসরি আইএফসিএনে আপনার অভিযোগ জানাতে পারেন।